রাজনীতি

‘রেজিনগরে জিতব, নন্দীগ্রামে বাড়বে ব্যবধান’, ভোট শেষেই বড় দাবি শুভেন্দুর, দিলেন ভোটের হিসেব

ভোটগ্রহণ শেষ। এবার নজর ফলাফলের দিকে। তার আগেই দুই উপনির্বাচনকে ঘিরে নিজেদের সম্ভাবনার হিসেব প্রকাশ করে দিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে শুধু জয় নয়, আগের তুলনায় অনেক বড় ব্যবধানে জিতবে বিজেপি। পাশাপাশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরেও পদ্ম ফুটবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর শুভেন্দু বলেন, রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখরভ সরকার ১ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি ভোট পেতে পারেন। শুধু জয়ের দাবিই নয়, কোন অংশের ভোট বিজেপির দিকে এসেছে বলেও নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

রেজিনগরে ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি ভোটের দাবি

গত বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে ছিল। দলের প্রার্থী পেয়েছিলেন ৬৪ হাজারের কিছু বেশি ভোট। সেই তুলনায় এবার ভোটের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার দাবি করেছেন শুভেন্দু।

তাঁর বক্তব্য, রেজিনগরে বিজেপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৃণমূলের সঙ্গে নয়, হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গেই। সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশ, বিশেষ করে মহিলা ও যুব ভোটারদের সমর্থন বিজেপির দিকে এসেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

শুভেন্দুর কথায়, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কারণে সংখ্যালঘু মহিলাদের একাংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন বলে তিনি মনে করছেন। তাঁর দাবি, সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও ভেদাভেদ করা হয় না—এই বার্তাও ভোটারদের একাংশের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে।

নন্দীগ্রামে ব্যবধান কতটা বাড়বে?

নন্দীগ্রাম নিয়ে অবশ্য শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী বিজেপি। ভোটের আগে থেকেই সেখানে বড় ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্যের কথা বলে আসছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভোট শেষেও সেই অবস্থান থেকে সরেননি তিনি।

তাঁর দাবি, গতবার নন্দীগ্রামে যে ব্যবধানে বিজেপি জিতেছিল, এবার তার তুলনায় জয়ের ব্যবধান অন্তত পাঁচ থেকে ছয় গুণ বাড়তে পারে।

দুই কেন্দ্র মিলিয়ে বিজেপির পক্ষে ফল যাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু। ভোটের হারও সেই দাবির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে করছেন তিনি।

৮১ শতাংশের বেশি ভোট, কী বলছেন শুভেন্দু?

মঙ্গলবার দুই কেন্দ্রে মিলিয়ে প্রায় ৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে। উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে এই ভোটের হারকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন শুভেন্দু।

তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের প্রতি মানুষের সমর্থনের প্রতিফলন ভোটের হারেও দেখা গিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, রেজিনগরে সংখ্যালঘু ভোটের একটি অংশ বিজেপির দিকে এসেছে।

তবে বয়স্ক সংখ্যালঘু ভোটারদের ক্ষেত্রে বিজেপি তেমন সমর্থন পায়নি বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই অংশের ভোট হুমায়ুন কবীরের দলের দিকে গিয়েছে। পাশাপাশি দুই কেন্দ্রেই বামেদের কার্যত কোনও প্রভাব ছিল না বলেও দাবি করেছেন শুভেন্দু।

শুক্রবারই খুলবে ফলের হিসেব

ভোট শেষ হওয়ার পর এবার অপেক্ষা গণনার। আগামী ৯ অক্টোবর, শুক্রবার রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম—দুই কেন্দ্রের ফল প্রকাশ হবে।

শুভেন্দুর হিসেব অনুযায়ী, রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি ভোট পেতে পারেন এবং নন্দীগ্রামে আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ব্যবধানে জয় আসতে পারে। এখন দেখার, ভোটের আগে এবং ভোটের পর বিজেপি নেতার করা এই হিসেব কতটা মেলে।

দুই কেন্দ্রেই বিজেপি জিতলে বিধানসভায় দলের বিধায়ক সংখ্যা ২০৭ থেকে বেড়ে ২০৯ হবে। ফলে ৯ অক্টোবরের ফল শুধু দুই কেন্দ্রের জয়-পরাজয় নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.