পাশবিকতা রুখে দাঁড়ালো গ্রাম। বিষ্ণুপুরে আদিবাসী যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযোগ, মাঠে ধান রোপণের কাজ করতে গিয়ে তিন যুবকের মধ্যে এক জনের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী। ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।
ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ। নির্যাতিতা যুবতী দুই মহিলার সঙ্গে মাঠে ধান রোপণে যান। সেখানেই এক মহিলার সঙ্গে বচসার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। নির্যাতিতার বউদির অভিযোগ, ওই মহিলা তখন ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলেন এবং পরে সঙ্গী সহ সেখান থেকে চলে যান। ঠিক সেই সময় মুখ ঢাকা অবস্থায় তিন যুবক মাঠে এসে হাজির হয়। অভিযোগ, তাদের একজন নির্যাতিতাকে ধর্ষণ করে, অন্য দুইজন পাহারা দেয়।
নির্যাতিতার পরিবার জানায়, ঘটনার পর কোনওরকমে বাড়ি ফিরে আসেন তরুণী। প্রথমে চুপ করে থাকলেও, বুধবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তার হৃদরোগ থাকায় বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বাড়িতেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন। তখন তাঁকে ভর্তি করা হয় বিষ্ণুপুর হাসপাতালে। এরপরই তাঁর বউদি বিষ্ণুপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচিত তিন যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন।
বউদির বয়ান অনুযায়ী, “ও রাতে একটুও ঘুমায়নি। শুধু বলছিল, আমাকে বিষ দাও। আমি এই সমাজে মুখ দেখাতে পারব না। ওর মানসিক অবস্থাও খারাপ হয়ে পড়ে। তখন আমি জোর করে সব জিজ্ঞাসা করি, ও আমাকে সব জানায়। দুষ্কৃতীদের কেউকেই চিনতে পারেনি, কারণ মুখ বাঁধা ছিল।”
বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুপ্রকাশ দাস জানিয়েছেন, “বৃহস্পতিবার রাতেই অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর আমরা তদন্তে নেমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করি। তার বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। ফলে রাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতকে শুক্রবার বিষ্ণুপুর আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।”
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে সমাজের নানা মহল। প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে দিনে-দুপুরে এমন বর্বরতা সম্ভব হলো? পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে বাকিদের দ্রুত গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার উপর কড়া নজর রেখেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।







