নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে পারিবারিক অশান্তিকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল এক নৃশংস হামলার ঘটনা। স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করতে গিয়ে বাধা দেওয়ায় গুরুতর জখম হলেন শাশুড়ি। বুধবার রাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ভাজনঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকার এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত জামাই ও তার দাদা ঘটনার পর থেকেই পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে চন্দননগরের বাসিন্দা সুমিত্রা ঘোষের সঙ্গে গোবিন্দপুরের অমিত ঘোষের বিয়ে হয়। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই অমিতের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরা, স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং পরকীয়ার মতো একাধিক অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিন অত্যাচার সহ্য করার পর সুমিত্রা সম্প্রতি বাপের বাড়িতে ফিরে যান এবং কৃষ্ণগঞ্জ থানায় বধূ নির্যাতন ও বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ, সেই ঘটনার জেরেই বুধবার গভীর রাতে অমিত ঘোষ ও তার দাদা সমীর ঘোষ ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে ভাজনঘাটে সুমিত্রার দিদিমার বাড়িতে হাজির হন। দু’জনেই মদ্যপ ছিলেন বলে দাবি পরিবারের। সুমিত্রাকে দেখতে পেয়েই অভিযুক্ত অমিত এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে বলে অভিযোগ।
মেয়ের আর্তনাদ শুনে ছুটে এসে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন মা মৌমিতা। কিন্তু তাঁকেও রেয়াত করেনি অভিযুক্ত। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি। হামলায় সুমিত্রাও আহত হন। এরপর অস্ত্র ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আহত দু’জনকে উদ্ধার করে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সুমিত্রাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, মৌমিতার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা উদ্বেগজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তল্লাশি চলছে। পারিবারিক অশান্তি থেকেই এই হামলার ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান। তবে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।






