রাজ্য

প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে নতুন মেট্রো লাইন সূচনার আগেই থমকে গেল পুরোনো মেট্রো রুটের চলাচল!

ব্যস্ত সময়ে ফের ভোগান্তির শিকার হলেন শহরের নিত্যযাত্রীরা। বৃহস্পতিবার সকাল বেলায় হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় ময়দান থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রো চলাচল। সকালে অফিস যাত্রার সময়ে এই আকস্মিক বিপর্যয়ে কার্যত বিপাকে পড়েন বহু মানুষ। প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় পরিষেবা। মেট্রো সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে লাইনে। ফলে ময়দান থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত ট্রেন চালানো সম্ভব হয়নি। ওই সময়ে যদিও ময়দান থেকে দক্ষিণেশ্বর এবং শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু ছিল, মাঝের অংশে পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

মেট্রোর তরফে জানানো হয়েছিল, পাওয়ার ব্লক সংক্রান্ত কাজের জন্যই সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। অবশেষে দুপুর ১২টা ১১ মিনিটে সমস্যা মিটে যায় এবং পরিষেবা ফের স্বাভাবিক হয়। যাত্রীদের মধ্যে স্বভাবতই ক্ষোভ জমতে থাকে। টালিগঞ্জ স্টেশনে দাঁড়ানো এক যাত্রী বিকাশ সরকার জানান,”ক্ষুদিরাম থেকে উঠেছিলাম চাঁদনি চক যাওয়ার জন্য। কিন্তু টালিগঞ্জেই নামতে হল। সময় নষ্ট হল, অফিসে পৌঁছোনো আর সম্ভব নয়। রোজ রোজ যদি এভাবে পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটে, আমাদের ভোগান্তি কে কমাবে?” পরিষেবা আংশিক বন্ধ থাকাকালীন যাত্রীদের একাংশের দাবি, যতীন দাস পার্ক স্টেশনের কাছে ট্র্যাকে জল জমে যাওয়াতেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদিও মেট্রো কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানায়নি।

প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছতে মেট্রোর উপর নির্ভর করেন। এ দিন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে অটো, বাস বা ট্যাক্সির মতো বিকল্প পরিবহনের খোঁজে ছুটতে শুরু করেন। তার ফলে রাস্তাতেও বাড়ে ভিড়। অনেক যাত্রী আবার দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকেন স্টেশনেই। নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, পরিষেবা বন্ধ হওয়া এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণে নজরদারির অভাবকেই দায়ী করছেন তাঁরা।

যাত্রীদের প্রশ্ন, শহরের প্রধান পরিবহন ব্যবস্থার উপর এত মানুষ নির্ভরশীল, সেখানে যদি বারবার এই ধরনের গোলযোগ দেখা দেয় তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করবেন? মেট্রো কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে মেরামতি করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের ক্ষোভ মেটেনি। তাঁদের বক্তব্য, আগেভাগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার করলে এমন বিপর্যয় এড়ানো যেত। শহরের দ্রুততম পরিবহন হিসেবে পরিচিত মেট্রো পরিষেবা কবে আবার আগের মতো নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য হবে, সেটাই এখন বড়ো প্রশ্ন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.