সিঙ্গাপুরে একটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার পর স্কুবা ডাইভিং কালে আকস্মিকভাবে প্রয়াত হন জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গ (Zubeen Garg)। ঘটনাটিকে ঘিরে বর্তমানে ব্যাপক তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জুবিনের আপতসহায়ক সিদ্ধার্থ শর্মা (Siddhartha Sharma) কে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক FIR দায়ের করা হয়েছে। তীব্র সমালোচনা ও হিংসাত্মক হুমকির মুখে সামাজিক মাধ্যম ও জনগণের চাপ বেড়ে যাওয়ায় আজ সিদ্ধার্থ একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে নিজের মনের কথা বললেন।
চিঠিতে সিদ্ধার্থ লিখেছেন, “অসম চিরকাল আমার কাছে বাড়ির মতো ছিল, থাকবে। যে সমস্ত মানুষেরা আমায় ভালবাসা আর সম্মান দিয়েছেন, তাঁদের হৃদয় আজ ভারাক্রান্ত। তবে আমার মনে হয়, চুপ করে থাকলে অনেক সময় ভুল মানে হয়ে দাঁড়ায়। আমার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। যেহেতু আমি তার কোনও উত্তর দিইনি, তাতে মানুষ ভীষণ অবাক হয়েছেন। অনেকের মনে হয়েছে, আমিই হয়তো ভুল কিছু করেছি। সেই কারণেই আমি এই চিঠিটা লিখছি। আমি বলতে চাই, লুকনোর কিছু নেই। আমি সত্যি থেকে পালাচ্ছি না। আমি যদি নিরাপত্তা পাই, তাহলে আমি এখনই গুয়াহাটিতে ফিরতে রাজি। যদি আমি SIT আর মানুষকে পাশে পাই, তাহলে গুয়াহাটিতে ফিরে যাব।”
সিদ্ধার্থ আরও উল্লেখ করেছেন, “১৯ সেপ্টেম্বর, আমার বড় ভাই, জুবিনদার সঙ্গে একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায়। উনি চলে যান। আমি দুর্ঘটনা ঘটার আগে পর্যন্ত ওঁর সঙ্গেই ছিলাম। ওঁকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি। ওর দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনার যাবতীয় ব্যবস্থাও আমিই করেছিলাম। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকেই দোষী ঠাউরে নেওয়া হল। আমি খুনের হুমকি পর্যন্ত পাচ্ছি। ঘৃণা ভরা বার্তাও পাঠানো হয়েছে আমাকে, অনেক খারাপ কথা বলা হয়েছে। আমায় আমার পরিবারের তরফ থেকেই বলা হয়েছে, আমায় গুয়াহাটিতে না ফিরতে, দিল্লিতেই থাকতে।”
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
সিদ্ধার্থ চিঠিতে পরিস্থিতির তীব্রতা তুলে ধরেন এবং কয়েকটি বিতর্কিত অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়েছেন—তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত যুক্তি যে তিনি জুবিনের একাধিক টাকা লুকিয়ে রেখেছেন, জুবিনের নাম ব্যবহার করে ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছেন, কিংবা কপিরাইট নিয়ে অনিয়ম করেছেন—এসবকে তিনি সরাসরি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, “আমি জুবিনদার থেকে কোনো টাকা নিইনি এবং ওর সমস্ত টাকা ওঁর পরিবারই পাবে, কথা দিচ্ছি।”
পুলিশি ও অনুসন্ধান আপডেট
স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। গ্রেফতার এবং একাধিক FIR-এর কথা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে; তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল, ডাইভিং সরঞ্জাম, নিখুঁত লাইফবুক ও মেডিক্যাল রেকর্ড এবং সেখানে থাকা অন্যান্য সদস্যদের বয়ান যাচাই করছেন। (নোট: তদন্তের বাকি বিশদ প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী আপডেট আসবে।)
পারিবারিক বেদনা ও জনসম্মান
জুবিনের পরিজনদের অশ্রু, ভক্তদের শোকে পুরো সঙ্গীতপ্রেমী সমাজ স্তব্ধ। সিদ্ধার্থ চিঠিতে স্পষ্ট করেছেন যে জুবিনকে হারানো তাঁর জন্য অপ্রতিহত ক্ষতি, এবং তিনি এখনো শিল্পীর শেষকৃত্যে উপস্থিত না থাকতে পারার বেদনা বহন করছেন।
সংক্ষিপ্ত সময়রেখা (সংকলিত)
১৯ সেপ্টেম্বর: সিঙ্গাপুরে দুর্ঘটনা ও জুবিনের মৃত্যুর খবর।
পরবর্তী দিনগুলো: জুবিনের দেহ ভারতে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হয়—এ সংক্রান্ত কার্যক্রমে সিদ্ধার্থের ভূমিকা ছিল বলে তিনি দাবি করেছেন।
সাম্প্রতিককালে: সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ ও হুমকিসহ চাপ বেড়ে যায়।
আজ: সিদ্ধার্থ গ্রেফতার হন; তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলা চিঠি প্রকাশ করে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বিবৃতি দিয়েছেন যে তিনি নিরাপত্তা পেলে গুয়াহাটিতে ফিরতে প্রস্তুত।
এই ঘনঘটা বিষয়টি শুধু একটি অপ্রত্যাশিত শিল্পী মৃত্যুই নয়—একটি বৃহৎ জনসামাজিক ও আইনি বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল। পাঠকদের কাছে অনুরোধ—অভিযোগ-সমর্থন ছাড়া তাত্ক্ষণিক রায় না দেওয়া এবং আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফলকে বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী আপডেট অনুসরণ করার জন্য।







