খেলাধুলা

ছ’বছর পর অলিম্পিকের মঞ্চে জাতীয় পতাকা নিয়ে রাশিয়া, ডাকারে ফিরল ‘রুশ’ পরিচয়

দীর্ঘ ছ’বছরের অপেক্ষার পর ফের অলিম্পিকের মঞ্চে জাতীয় পরিচয়ে দেখা গেল রাশিয়াকে। সেনেগালের রাজধানী ডাকারে শুরু হওয়া যুব অলিম্পিকে রুশ ক্রীড়াবিদেরা অংশ নিচ্ছেন নিজেদের দেশের পতাকা ও পরিচয় নিয়েই। ডোপিং বিতর্ক এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের কারণে গত কয়েক বছর আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে একাধিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিল দেশটি। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে অলিম্পিকের আসরে রাশিয়ার এই প্রত্যাবর্তন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

২০২০ সালের পর একাধিক অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় রুশ ক্রীড়াবিদদের নিরপেক্ষ পরিচয়ে অংশ নিতে হয়েছিল। ব্যবহার করা যেত না দেশের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত কিংবা অন্য কোনও রাষ্ট্রীয় প্রতীক। তবে গত ৩১ অক্টোবর, শনিবার থেকে শুরু হওয়া ডাকারের যুব অলিম্পিকে সেই নিয়মে বদল এসেছে। রুশ প্রতিনিধিরা এবার জাতীয় পতাকা ব্যবহার করার পাশাপাশি নিজেদের জাতীয় সঙ্গীতও পরিবেশন করতে পারবেন। ২০২০ সালের লুসান শীতকালীন যুব অলিম্পিকের পর এই প্রথম কোনও অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় এমন অধিকার পেলেন তাঁরা।

২০২৬ সালে রাশিয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নেয় আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি বা আইওসি। জুলাইয়ে রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটির উপর জারি থাকা সাময়িক সাসপেনশন তুলে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রাশিয়া ও বেলারুশের ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ সীমিত রাখার বিষয়ে আইওসির আগের সুপারিশও প্রত্যাহার করা হয়। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির হাতেই রয়েছে। এর মধ্যেই ডাকারের যুব অলিম্পিকে জাতীয় পরিচয়ে রাশিয়ার অংশগ্রহণ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তবে রাশিয়ার প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি ডাকারের যুব অলিম্পিকের আরও একটি বিশেষ দিক রয়েছে। প্রথমবার আফ্রিকার মাটিতে কোনও অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঐতিহাসিক আসর ঘিরে আয়োজক দেশ সেনেগালের উৎসাহও তুঙ্গে।

মূলত ২০২২ সালেই এই প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোভিড অতিমারির কারণে আয়োজন চার বছর পিছিয়ে যায়। এবারের যুব অলিম্পিকে ২০৪টি জাতীয় অলিম্পিক কমিটির প্রায় ২৭০০ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছেন। প্রতিযোগীদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই ক্রীড়া আসর।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি ক্রিস্টি কভেন্ট্রির কাছেও ডাকারের এই আয়োজন বিশেষ আবেগের। ২০২৫ সালে আইওসির শীর্ষ পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনিই প্রথম আফ্রিকান হিসেবে এই পদে বসেছেন।

ডাকারে পৌঁছে প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার পর কভেন্ট্রি জানান, বহু প্রতীক্ষিত দিন অবশেষে এসেছে। তাঁর কথায়, এই আয়োজনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি চলেছে এবং একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পেরিয়ে আয়োজকেরা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছেন।

শেষ মুহূর্তে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা এবং বৃষ্টির কারণে কিছুটা অসুবিধায় পড়তে হয়েছিল আয়োজকদের। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গোটা ব্যবস্থাপনায় ছ’হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন স্পেন ও ফ্রান্সের পুলিশকর্মীরা। প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁদের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.