ভোটের আগে বাংলায় বিশেষ ভোটার তালিকা পরিমার্জন (SIR) নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় মুখ খুললেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বিজিত ধর। উত্তরবঙ্গে এক প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি জানালেন, “এখনও কোনও নির্দেশ আসেনি, সময় এলে দেখা যাবে।” যদিও একই দিনে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার নিরিখে ১০৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করল কমিশন, যা SIR প্রক্রিয়ারই প্রথম ধাপ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
সোমবার জলপাইগুড়িতে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বিজিত ধর। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার BLO-রা। আলোচনা হয় ভোটার তালিকা পরিমার্জন, প্রশিক্ষণ এবং অবৈধ ভোটার চিহ্নিতকরণের পদ্ধতি নিয়ে।
বিজিত ধর বলেন, “বিএলওরা সারাবছর মাঠপর্যায়ে কাজ করেন, তারাই কমিশনের আসল প্রতিনিধি। সম্প্রতি অনেক নতুন BLO নিয়োগ হয়েছে, তাঁদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে, সেটাই এই বৈঠকের উদ্দেশ্য।”
কিন্তু যখন তাঁকে SIR প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়, তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত কমিশনের কাছ থেকে কোনও নির্দেশ আসেনি। নির্দেশ এলে সেইমতো কাজ করা হবে।”
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে একদিকে যেমন জল্পনা কিছুটা স্তিমিত করার চেষ্টা হয়েছে, অন্যদিকে কমিশনের পক্ষ থেকে ১০৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ কার্যত বিশেষ সমীক্ষার সূচনাই করে দিয়েছে। যা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, “বিহারে যে ধরনের ভোটার সমীক্ষা হচ্ছে, বাংলাতেও তেমন কিছু করার পরিকল্পনা নিচ্ছে কমিশন।” তার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়—এই সমীক্ষার মাধ্যমে কি ভোটারদের ধর্ম বা জাতি দেখে ‘নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর চেষ্টা হচ্ছে?
এই মুহূর্তে কমিশনের তরফে সরাসরি কোনও ঘোষণা না এলেও ভোটের আগেই বাংলায় বড় মাপের ভোটার তালিকা সমীক্ষার প্রস্তুতি যে শুরু হয়ে গিয়েছে, তা কার্যত স্পষ্ট। আগামী দিনে কমিশনের নির্দেশ এলেই SIR কার্যকর হবে—এমন ইঙ্গিত মিলছে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্যে।







