১৪ মাসের ফুটফুটে ছেলেটার নাম ছিল শিবাংশ। হাসিমুখে দুনিয়া চিনতে শেখা সেই শিশুর জীবন শেষ পর্যন্ত আটকে পড়ল অবহেলার এক অসংবেদনশীল চক্রে। চিকিৎসা ব্যবস্থার ধারাবাহিক গাফিলতির শিকার হয়ে অকালে ঝরে গেল ছোট্ট প্রাণটা। সেনাকর্মী বাবা জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে কর্তব্যরত, আর মা একা হাতে ছোট ছেলেকে কোলে নিয়ে ঘুরলেন পাঁচ-পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। তবু মিলল না সঠিক চিকিৎসা, মিলল না সহানুভূতিও।
১০ জুলাই, হঠাৎ করেই শিবাংশের বমি শুরু হয়। মা প্রথমে চেষ্টা করেন ঘরোয়া উপায়ে সামলানোর। বুকের দুধ খাওয়াতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু শিশুটি কিছুই নিতে পারছিল না। শারীরিক অবস্থার অবনতির মধ্যেই দ্রুত তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় চামোলির গোয়ালদম প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখান থেকে বৈজনাথ কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে, তার পর বাগেশ্বর জেলা হাসপাতালে। প্রতিটি ধাপেই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, পরিকাঠামোর ঘাটতি, আর সবচেয়ে করুণ—মানবিক সহানুভূতির অভাব।
শিবাংশের পরিবার জানায়, জেলা হাসপাতালে পৌঁছেও তারা দেখে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ব্যস্ত ফোনে, নার্সেরা নিজেদের মধ্যে হাসি-মজায় মশগুল। শিশুটিকে যথাযথভাবে না দেখেই তাকে আলমোড়া হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপর শুরু হয় অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য অপেক্ষা। সন্ধ্যা সাতটায় ফোন করা হলেও রাত সাড়ে ন’টার আগে গাড়ি পৌঁছায়নি। মাঝে বহুবার অনুরোধ, ফোন, এমনকি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকেও ফোন করেছিলেন শিবাংশের মা।
এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে অবশেষে শিবাংশ ভর্তি হয় হলদওয়ানি হাসপাতালের শিশু আইসিইউ-তে। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টার পরেও, ১৬ জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে।
শোকস্তব্ধ মা-বাবার আর্তি—“জরুরি অবস্থা বলতে কী বোঝায়? এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘোরানোই কি দায়িত্ব পালন? আমাদের সন্তানের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের কি কোনও জবাবদিহি নেই?”
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ঘটনার নিন্দা করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে অবহেলা সহ্য করা হবে না। যারা দোষী, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে তার চেয়েও বড় প্রশ্ন—কবে অবহেলা থামবে? কবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ‘মানবতা’ ফিরে আসবে? আর কত শিবাংশকে মৃত্যুর পথে যেতে হবে এই জবাবদিহিহীন ব্যবস্থার গাফিলতিতে?







