ভোট মরশুমে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠল। শনিবার দুপুরে শ্রীরামপুরে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সাংসদ সুকান্ত মজুমদার যখন বলেন, “কল্যাণদা যদি খেলতে ডাকে তাহলে আমি কর্মীদের বলে দিচ্ছি ভাল করে খেলুন,” সন্ধ্যায় হাওড়ায় পৌঁছনেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা কটাক্ষ করে সমস্যাকে নতুন মাত্রা দেন — এক পর্যায়ে তিনি গালভর্মে হুমকি তুলে বলেন, “আয় সুকান্ত আয়… এখানে যা লোক আছে তাঁদের পায়ের তলায় পড়ে তোর প্রাণ চলে যাবে।”
দুই নেতার মধ্যে “তুই-তুকারি” থেকে শুরু হওয়া বাক্যবিনিময় দ্রুত উত্তেজনাকর হুমকিতে রূপ নেয়। সুকান্ত দাবি করেছেন, “আমরা খেলতে খুব ভালবাসি… চ্যালেঞ্জ আমি আগেই গ্রহণ করেছি। আমি তো শ্রীরামপুরেই দাঁড়িয়ে আছি,” আর কল্যাণ রিপ্লাই করেছেন, “আসুক ওরা… CISF-কে ছেড়ে আয়… কোনদিন কবে আসবি। কোনও পুলিশ থাকবে না। এক বাপের বেটা হলে চ্যালেঞ্জ নে।”
সূত্ররা বলছে, কল্যাণের হুঙ্কার প্রসঙ্গে তিনি মোদী-শাহর নামও টেনে বলেন, “তোর বাবা নরেন্দ্র মোদী আর কাকা অমিত শাহ এসেছিলেন। আমার ক্ষমতা দেখিয়ে দিয়েছি। ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ভোটে হারিয়েছি।” অন্যদিকে সুকান্ত বলেন, সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়ছে; তিনি সাবিনাকে “বাংলাদেশে পাঠানোর” কথাও বলেন এবং সাধারণ মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তৃণমূলের কথায় রাস্তা নামবেন না, রাস্তায় নামলে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামবে… যদি দোকানঘর পোড়ান, বাড়িতে আক্রমণ করেন… কেন্দ্রীয় বাহিনী নামলে গুলি চলবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উস্কানিমূলক ভাষা ভোট-মাঠকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে এবং পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী সংক্রান্ত কথোপকথন নিরাপত্তা ও ভোটশান্তি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি — তবে স্থানীয় সূত্রে জানানো হচ্ছে, শনিবারেরই বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক পয়েন্ট
কল্যাণ-সুকান্ত দ্বন্দ্ব শ্রীরামপুর ও হাওড়ার সভায় প্রকাশ্যে আসে; উভয় নেতার বক্তব্য সরাসরি রাজনীতির জীবন্ত বিতণ্ডা সৃষ্টি করেছে।
CISF ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে টেনে আনা হয়েছে উভয়পক্ষের কথোপকথনে — যা ভোটশান্তি ও নিরাপত্তার দিক থেকে উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
সাবিনা ইয়াসমিন-সংক্রান্ত শ্লেষ ও প্রতিক্রিয়া সংঘাতকে আরো তীব্র করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব বিবাদ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ভোটপ্রকিয়া প্রভাবিত করতে পারে; কমিশন ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নজরকাড়া হবে।
কোট
“আয় সুকান্ত আয়… এখানে যা লোক আছে তাঁদের পায়ের তলায় পড়ে তোর প্রাণ চলে যাবে।” — কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া।
“চ্যালেঞ্জ আমি আগেই গ্রহণ করেছি… আমি তো শ্রীরামপুরেই দাঁড়িয়ে আছি।” — সুকান্ত মজুমদার, শ্রীরামপুর।







