শুরু হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ। সীমান্তে চলছে গোলাগুলি, বোমা বর্ষণ। বুধবারের সেই হামলাতেই প্রাণ হারিয়েছেন আফগানিস্তানের তিন তরুণ ক্রিকেটার। কবীর আঘা, সিবঘাতুল্লা এবং হারুণ— এই তিন উঠতি ক্রিকেটারই ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না। পাকিস্তানের বিমান হামলায় পাকতিকা প্রদেশে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শোক ও ক্ষোভে ফুঁসছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (ACB)। রশিদ খান, নবীন উল হক, মোহাম্মদ নবি-সহ আফগান ক্রিকেটাররাও সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানের বর্বরোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন। রশিদ খান এক বিবৃতিতে বলেন, “এই হামলা শুধু তিন ক্রিকেটারকেই কেড়ে নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ। আমরা শোকাহত, ক্ষুব্ধ এবং প্রতিবাদী।”
ঘটনা নিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আইসিসি (ICC)। বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে,
“আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলায় কবীর আঘা, সিবঘাতুল্লা এবং হারুণ নামের তিন তরুণ প্রতিভার মৃত্যুতে আইসিসি গভীরভাবে শোকাহত। এই হিংসাত্মক আক্রমণ বহু পরিবার ও সমাজের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। আইসিসি এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা করছে এবং আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পাশে রয়েছে।”
শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাই নয়, ক্ষোভে ফেটে পড়েছে আফগান বোর্ডও। তাদের তরফে বলা হয়েছে—
“পাকিস্তান সরকারের কাপুরুষোচিত আক্রমণে তিনজন ঘরোয়া ক্রিকেটারসহ পাঁচজন দেশবাসী শহীদ হয়েছেন। আরও সাতজন আহত। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এই ঘটনার নিন্দা করছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।”
এ ঘটনার পরই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। নভেম্বর মাসে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলা তিন দেশীয় টি২০ সিরিজ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছে আফগানিস্তান। সিরিজটি লাহোর ও রাওয়ালপিণ্ডিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
ক্রিকেটবিশ্বে এই মর্মান্তিক ঘটনার ছায়া পড়েছে গভীরভাবে। ক্রীড়াজগতের বহু তারকা দেশ-বিদেশে পাকিস্তানের এই সামরিক পদক্ষেপের নিন্দা জানাচ্ছেন। যুদ্ধের আগুনে এবার ক্রিকেটের ময়দানও যেন রক্তে রঙিন হয়ে উঠল।







