প্যারিসের যে মিউজিয়ামের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ভেদ করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয়, সেই ল্যুভর মিউজিয়ামে রবিবার ঘটল এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। মোনালিসা বা ভেনাস ডি মিলোর মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পকর্মের ঠিকানা এই সংগ্রহশালায় হানা দিয়ে চোরেরা লুট করে নিয়ে গেল ফরাসি রাজতন্ত্রের এক অমূল্য সম্ভার।এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি অ্যালার্ম বাজিয়ে দেয়। সেই মুহূর্তে মিউজিয়ামের ভেতরে থাকা হাজার হাজার পর্যটকের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পর্যটকদের দ্রুত মিউজিয়াম কমপ্লেক্স থেকে বের করে আনা হচ্ছে। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় গোটা এলাকা এবং পর্যটকদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় ল্যুভরের দরজা।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লে প্যারিসিয়েন’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ডাকাতরা এই চুরির জন্য রীতিমতো নিখুঁত এবং পেশাদার পরিকল্পনা করেছিল। তারা মিউজিয়ামে ঢোকার জন্য প্রধান ফটক বা পর্যটকদের প্রবেশপথ ব্যবহার করেনি। তারা বেছে নেয় সেন নদী সংলগ্ন সেই দিকটি, যেখানে বর্তমানে মিউজিয়ামের একাংশে বড়সড় মেরামতির কাজ চলছে।
এই নির্মাণাধীন এলাকাটিকেই তারা ব্লাইন্ড স্পট হিসেবে ব্যবহার করে দুষ্কৃতীরা। সেখান থেকে তারা একটি মাল ওঠানোর লিফট ব্যবহার করে সোজা পৌঁছে যায় অ্যাপোলো গ্যালারিতে। এই গ্যালারিটি ল্যুভরের অন্যতম সেরা আকর্ষণ, কারণ এখানেই ফরাসি রাজতন্ত্রের অমূল্য ক্রাউন জুয়েলস এর অবিশ্বাস্য সংগ্রহ রাখা আছে। অ্যাপোলো গ্যালারিতে ঢুকে তারা সেই নির্দিষ্ট শো-কেসের সামনে পৌঁছায়, যেখানে নেপোলিয়ন যুগের গয়নাগুলি ছিল। সেই হাই-সিকিউরিটি বুলেটপ্রুফ কাঁচ ভাঙার জন্য তারা সঙ্গে আনা ছোট কিন্তু শক্তিশালী চেইন করাত ব্যবহার করে। মিউজিয়ামের ভেতরে করাতের শব্দ শোনা গেলেও, নির্মাণকাজের শব্দের আড়ালে তা চাপা পড়ে যায় বলে অনুমান। চোখের নিমেষে তারা নেপোলিয়ন এবং সম্রাজ্ঞীর ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে মোট নয়টি অমূল্য অলংকার নিয়ে যে পথে এসেছিল, সেই পথেই পালিয়ে যায়।
চুরির খবর পাওয়া মাত্রই খোদ ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রী, রাচিদা দাতি, সমস্ত কাজ ফেলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, “পুলিশ এবং জাদুঘরের বিশেষজ্ঞ দল তদন্ত শুরু করেছে। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কেউ আহত হননি।” পুলিশ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে কী করে এত কড়া নিরাপত্তার বলয় টপকে চোরেরা এই কাণ্ড ঘটাল। মাল ওঠানোর লিফটের অবস্থান এবং অ্যাপোলো গ্যালারির সঠিক ম্যাপ জানা না থাকলে এই ধরনের চুরি সম্ভব নয়। তাই এই চুরির পিছনে মিউজিয়ামের কোনো কর্মীর মদত বা ইনসাইড জব এর সম্ভাবনাও পুলিশ উড়িয়ে দিচ্ছে না।







