বেঙ্গালুরু | অনলাইন ক্যাব পরিষেবা প্রদানকারী ও বৈদ্যুতিক বাইক নির্মাতা সংস্থা ‘ওলা’ (Ola)-র এক ইঞ্জিনিয়ারের আত্মহত্যা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। সংস্থার সিইও তথা প্রতিষ্ঠাতা ভবেশ আগরওয়ালসহ একাধিক শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। মৃত ইঞ্জিনিয়ারের রেখে যাওয়া ২৮ পাতার সুইসাইড নোটের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৮ সেপ্টেম্বর। বেঙ্গালুরুর চিক্কালাসান্দ্রার ফ্ল্যাটে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন ‘ওলা’-র ইঞ্জিনিয়ার কে. অরবিন্দ (K. Aravind)। ২০২২ সাল থেকে ওই সংস্থায় কর্মরত ছিলেন তিনি।
প্রথমে পুলিশ এই ঘটনাকে রহস্যমৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করলেও, তদন্তের মোড় ঘুরে যায় কয়েক দিন পর। অরবিন্দের মৃত্যুর দু’দিন পর তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে হঠাৎই জমা পড়ে প্রায় ১৭.৫ লক্ষ টাকা। পুলিশ যখন এই বিষয়ে কোম্পানির এইচআর এবং অন্যান্য শীর্ষকর্তাদের প্রশ্ন করে, তখন স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি কেউই।
এরপরই অরবিন্দের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা উদ্ধার করেন একটি ২৮ পাতার সুইসাইড নোট। সেখানে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন—‘ওলা’র সিইও ভবেশ আগরওয়ালসহ কিছু শীর্ষকর্তা তাঁকে মানসিক হেনস্থা, কাজের অস্বাভাবিক চাপ এবং বেতন আটকে রেখে আর্থিক চাপে ফেলার চেষ্টা করেছেন। সেই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই আত্মঘাতী হন তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে ৬ অক্টোবর সুব্রহ্মণ্যপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভবেশ আগরওয়ালসহ সংস্থার কয়েকজন কর্তাব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে বেঙ্গালুরু পুলিশ।
সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া
‘ওলা’র তরফে এক মুখপাত্র সোমবার বলেন,
“অরবিন্দের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তিনি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের সঙ্গে কাজ করছিলেন। তবে তিনি কখনও মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত কাজের বিষয়ে কোনও অভিযোগ জানাননি। এমনকি, সংস্থার শীর্ষকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল না।”
সংস্থার দাবি, অরবিন্দের পাওনা সমস্ত অর্থ ইতিমধ্যেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, যে এফআইআর দায়ের হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সংস্থা কর্নাটক হাইকোর্টে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে বলেও ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি এখন আইনি তদন্তের পর্যায়ে, তবে একটি বড় টেক সংস্থার সিইওর বিরুদ্ধে সরাসরি আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ ওঠায় কোম্পানির কর্মসংস্কৃতি ও কর্পোরেট মানসিক চাপের বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।







