ঠাকুরনগরে ফের নয়া সমীকরণ! ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ’-এর ভেতরেই এবার তৈরি হচ্ছে ‘তৃতীয় সূত্র’। শুধু শান্তনু বা মমতাবালা ঠাকুর নন, এবার আলাদা সংগঠন গঠনের পথে হাঁটছেন গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর। শনিবার তিনি জানান, একই নাম ও একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর বজায় রেখেই এক নতুন নেতৃত্বের অধীনে তৈরি হবে তাঁর সংগঠন।
সুব্রত বলেন, ‘‘আগামী ৪ তারিখ, মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন সংগঠনের ঘোষণা করা হবে। ঠিক কী কারণে এই সিদ্ধান্ত, তা সেই দিনই জানাব।’’
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তোলপাড় ঠাকুরবাড়ি। বছর ঘুরলেই বাংলায় ভোট, আর মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে ঘিরে রাজনৈতিক কৌশল এখন চরমে। এই আবহে সুব্রতর ঘোষণায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা— দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনও পরিকল্পিত পদক্ষেপ?
তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেছেন, ‘‘ওটা ওঁদের পরিবারের ব্যাপার। তবে বড় ছেলে চিরকালই বঞ্চিত থেকেছে। বড় ছেলে হিসাবে সুব্রতের এই বাড়িতে অধিকার পাওয়া উচিত।’’
একই সঙ্গে মতুয়া সংগঠনের ভাঙন নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সংসার বড় হলে এমন হবেই। পাঁচটা ভাই থাকলে পাঁচটা ভাগ হবেই। মানুষ ঠিক সংগঠনটিকেই বেছে নেবে।’’
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা সুব্রতের ভাই শান্তনু ঠাকুর এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
বর্তমানে মতুয়া মহাসঙ্ঘের দুটি সমান্তরাল শাখা কার্যত সক্রিয় — একটির নেতৃত্বে রয়েছেন মমতাবালা ঠাকুর, অপরটির নেতৃত্বে শান্তনু ঠাকুর। যদিও সুব্রত ঠাকুর সংগঠনের ‘মহাসঙ্ঘাধিপতি’ পদে রয়েছেন, তবুও সংগঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় শান্তনুর নির্দেশেই— এমনই দাবি একাংশের।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই নতুন সংগঠন কি কেবল পারিবারিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি রাজ্য রাজনীতিতে মতুয়া ভোটের সমীকরণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা?







