এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতেই নতুন বিতর্কে রাজ্য রাজনীতি। তিন তৃণমূল বিধায়ক অভিযোগ তুলেছেন— কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নাম ভাঙিয়ে তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে, টাকা তোলার চেষ্টা চলছে। মুম্বই থেকে ফোন করে ইডি ও সিবিআই আধিকারিক সেজে তোলাবাজির ছক কষা হয়েছে বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার অভিযোগ দায়ের করেন গোসাবার বিধায়ক সুব্রত মণ্ডল, বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দার এবং সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম। তিনজনই পৃথকভাবে স্থানীয় থানায় এফআইআর করেছেন।
বিধায়ক বিভাস সর্দার অভিযোগ করেন, মুম্বইয়ের সিবিআই দপ্তর থেকে ফোন করে তাঁকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে বলা হয়। তিনি রাজি না হলে ইমেলের মাধ্যমে ব্যাঙ্ক লেনদেনের কিছু নথি পাঠানো হয়, যেখানে দাবি করা হয়— তিনি নাকি এক সাদাকাত খান নামে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যকে তিন কোটি টাকা পাঠিয়েছেন। সেই নথি দেখিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়। বিধায়কের দাবি, “পুরোটাই মিথ্যা ও পরিকল্পিত চক্রান্ত। আমাকে দেশদ্রোহিতার মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।”
একই ধরনের ফোন ও ইমেল পেয়েছেন ফিরদৌসি বেগম ও সুব্রত মণ্ডলও। অভিযোগ, ইডি ও সিবিআইয়ের নাম করে তাঁদের বিরুদ্ধে “অনৈতিক কাজের” অভিযোগ তুলে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এফআইআরের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। বারুইপুর জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ফোন ও ইমেলের উৎস ট্রেস করার কাজ চলছে।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় পড়েছে এই ঘটনার পর। তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, “এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ। কেন্দ্রীয় সংস্থার নাম ভাঙিয়ে শাসক দলের জনপ্রতিনিধিদের ভয় দেখানো হচ্ছে।”
বিজেপি অবশ্য পাল্টা দাবি করেছে, “ভয় দেখানোর অভিযোগ আসলে দৃষ্টি অন্য দিকে ঘোরানোর কৌশল।”
এসআইআর ঘিরে রাজ্য যখন উত্তপ্ত, সেই সময় এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক তরজায় আগুন জ্বালিয়েছে।







