নিউ আলিপুরে ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য জালিয়াতির ঘটনা। অসুস্থ গৃহকর্তাকে কৌশলে বাড়ি থেকে সরিয়ে রেখে তাঁরই বাড়ি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গৃহকর্তার আত্মীয় ও পরিচারিকার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিউ আলিপুর থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং জালিয়াতি চক্রে আর কে বা কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিউ আলিপুরের এক প্রবীণ বাসিন্দা কিছুদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সেই সুযোগেই তাঁর আত্মীয় অলোক ঘোষ ও বাড়ির পরিচারিকা চম্পা পুরকায়েত তাকে বোঝায়, বাড়িটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন। তাই কিছুদিনের জন্য অন্যত্র ভাড়াবাড়িতে থাকাই নাকি নিরাপদ। গৃহকর্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁদের কথায় সম্মতি দেন এবং নিজের বাড়ি ছেড়ে ভাড়াবাড়িতে চলে যান।
এরপরই শুরু হয় তাদের পরিকল্পিত প্রতারণা। অভিযোগ অনুযায়ী, গৃহকর্তার নকল সই করে ভুয়ো নথি তৈরি করা হয়। সেই নথি দেখিয়ে বাড়িটি ৭৪ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেয় অলোক ও চম্পা। লেনদেনের টাকার মধ্য থেকে চম্পা পায় ২৫ লক্ষ টাকা। সবকিছু গোপনে চললেও, কিছুটা সুস্থ হয়ে গৃহকর্তা নিউ আলিপুরের নিজের বাড়িতে ফিরে এসে চমকে যান—বাড়ির দখলে তখন অন্য লোকজন! বুঝতে পারেন তাঁর বাড়িই হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। তিনি তৎক্ষণাৎ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় অলোক ঘোষকে। তাঁর জেরা থেকে মিলিত তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় পরিচারিকা চম্পা পুরকায়েতকে। তদন্তকারীদের দাবি, এই দুই অভিযুক্তের জেরায় আরও কিছু নাম উঠে আসছে। বাড়ি দখল এবং জালিয়াতির এই চক্রে আর কারা যুক্ত, তা জানতে চলছে টানা জেরা।







