আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অঙ্গনে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার জেরে আর্থিকভাবে চাপে থাকা মস্কো এবার নতুন পথ বেছে নিচ্ছে। ইতিহাসে প্রথমবার রাশিয়া ঘোষণা করেছে—চীনা মুদ্রা ইউয়ান-এ সরকারি বন্ড (Government Bond) জারি করবে।
কবে এবং কীভাবে জারি হবে এই বন্ড?
রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রকের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকেই বাজারে আসছে এই ইউয়ান-নির্ভর বন্ড। তিন থেকে সাত বছরের মেয়াদী এই বন্ডগুলি রাশিয়ার তিনটি প্রধান ব্যাংক—গাজপ্রমব্যাংক, সেরব্যাংক ও ভিটিবি ক্যাপিটাল—এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য উপলব্ধ করা হবে।
বিনিয়োগকারীরা চাইলে ইউয়ান অথবা রুবল—দুই মুদ্রাতেই অর্থ প্রদান করতে পারবেন। তবে সুদ প্রদান করা হবে শুধুমাত্র ইউয়ানে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে রাশিয়া।
ইউয়ানেই বন্ড কেন? এর পেছনের মূল কারণ
ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমী দেশগুলির নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত রাশিয়ার ব্যাংক ও কোম্পানিগুলি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় কার্যত বিচ্ছিন্ন।
অন্যদিকে, গত কয়েক বছরে রাশিয়া–চীন বাণিজ্য সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হয়েছে। রাশিয়ার হাতে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ ইউয়ান মজুত রয়েছে। সেই কারণে, নিজের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রাখতে এবং পশ্চিমী মুদ্রার ওপর নির্ভরতা কমাতে ইউয়ানেই বন্ড জারি করছে মস্কো।
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
২০২২ সালে দুই দেশ ‘সীমাহীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ (No-Limits Strategic Partnership) ঘোষণা করে। গত বছর তাদের পারস্পরিক বাণিজ্য রেকর্ড ২৪৫ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউয়ানে বন্ড জারি করা কার্যত দুই দেশের মধ্যে আর্থিক জোটের নতুন অধ্যায় খুলে দিচ্ছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা।
রাশিয়া এখন তার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে পশ্চিমের প্রভাব থেকে সরিয়ে চীন-কেন্দ্রিক এক নতুন অর্থনৈতিক অক্ষ (Economic Axis) তৈরি করছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক লেনদেনে ডলারের আধিপত্য কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বিশ্লেষণ:
রাশিয়ার ইউয়ান বন্ড শুধু এক আর্থিক নীতি নয়, বরং এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের প্রতীক।
বিশ্ব যখন দুই মেরুতে বিভক্ত—তখন রাশিয়া ও চীনের এই ঘনিষ্ঠতা এক নতুন অর্থনৈতিক জোটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।







