নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত কাজের চাপ, গভীর রাতে নির্দেশ-ফোন, নতুনভাবে ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি বাধ্যতামূলক করা— এসবের প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ফুঁসে উঠেছেন বিএলওরা। শনিবার শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চ যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রশিক্ষণ চলাকালীনই হঠাৎই ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত বিএলওরা। স্লোগান দিতে দিতে শিবির ছাড়েন তাঁরা, মাটিতে শুয়ে বিক্ষোভ দেখান।
বিএলওদের অভিযোগ,
দিনের পর দিন অস্বাভাবিক পরিমাণ কাজের চাপ দেওয়া হচ্ছে,
গভীর রাত পর্যন্ত কমিশন থেকে ফোনে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে,
আচমকা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সব কাজ ডিজিটালে ডেটা এন্ট্রি করতে হবে,
দ্রুত প্রশিক্ষণ নিতে হবে— যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।
এক বিক্ষোভকারী শিক্ষিকা ও বিএলও সহেলি নস্কর জানান,
“দিনে স্কুলে ক্লাস, রাতে কমিশনের কাজ— আমরা সর্বস্বান্ত। এর মধ্যে আবার ডিজিটাল এন্ট্রির জন্য জোর করে প্রশিক্ষণ! আমরা এই অতিরিক্ত চাপ আর নিতে পারছি না। ডিজিটাল এন্ট্রি করবো না, বয়কট করছি।”
অন্যদিকে শিক্ষক ও বিএলও প্রকাশ মাজি বলেন,
“২০০টা করে ফর্ম হাতে লিখে, আবার ডিজিটালে পূরণ করতে বলা হচ্ছে। বয়স্ক বিএলওরা তো প্রযুক্তিই বোঝেন না। প্রয়োজনে আমরা ডিএম-এর কাছে ডেপুটেশন দেবো।”
শুধু শিলিগুড়ি নয়— হাওড়ার শিবপুর ১৭২ নম্বর বিধানসভার ২৪০ জন বিএলও-র টিকিয়াপাড়া সরকারি দপ্তরে প্রশিক্ষণ চলাকালীনও একই ক্ষোভ দেখা যায়। অনেকেই জানান, এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন চাপ মানা সম্ভব নয়।
একাধিক জায়গায় একযোগে এমন প্রতিবাদে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে নির্বাচন কমিশন। ভোটের আগে এই বিক্ষোভ রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক উদ্বেগ বাড়িয়েই দিচ্ছে।







