বিদেশ

দিল্লি বিস্ফোরণের পর পাকিস্তানকে বাণিজ্য ক্ষেত্রে ধাক্কা আফগানিস্তানের

দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে পাকিস্তানের জইশ-ই-মহম্মদের যোগ। তারপরেই আন্তর্জাতিক মহলে নজরে এসেছে ইসলামাবাদ। ধৃত জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে একাধিক চঞ্চল্যকর তথ্য। এবার এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে বেশ চাপের মুখে পরেছে পাকিস্তান। তার মধ্যেই বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা দিল আফগানিস্তানের তালিবান সরকার।

এই বিস্ফোরণ নিয়ে প্রবল তৎপরতা দেখা গিয়েছে। এমনকি এরইমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে একের পর এক অভিযুক্ত। পাশাপশি তদন্তকারীরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছে কিভাবে তারা অভিযানের সময় নিয়মিতভাবে একজন পাক হ্যান্ডলারের নির্দেশে কাজ করে চলেছিল। যার ফলে ভারতের মাটিতে সন্ত্রাসে পাকিস্তানের জড়িত থাকার দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবার আরও দৃঢ় হলো।

পাকিস্তানের এই জরাজীর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে ধেয়ে এলো বড় ধাক্কা। ইসলামিক আমিরাত কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য ও ট্রানজিট পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য এক ধাক্কায় থমকে গেল।

ইসলামিক আমিরাতের অর্থনৈতিক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার বলেছেন, পাকিস্তান বারবার রাজনৈতিক অজুহাতে বাণিজ্য পথ বন্ধ করে আফগানিস্তানের ক্ষতি করেছে। দেশের মর্যাদা, ব্যবসা এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষার স্বার্থে তাই আফগান ব্যবসায়ীদের পাকিস্তানমুখী বাণিজ্য কমিয়ে অন্যান্য রুট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাজারে ধস নেমেছে। এমনকি এর প্রভাবে ইসলামাবাদে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য এক ধাক্কায় অনেকটা বৃদ্ধি হতে শুরু করেছে। এছাড়াও ফল ও সবজির দাম প্রায় আকাশ ছুঁয়েছে।

এদিকে ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান ও আফগান তালিবানের শান্তি বৈঠক হলেও শান্তি সমাধান পাওয়া যায়নি। যার জন্য পাল্টা চাপ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন কৃষিপণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন আফগান বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। তাঁর দাবি, যে দেশ নিজেদের পরমাণু শক্তিধর বলে দাবি করে, তারা এখন পেঁয়াজ, আলু, টমেটো এবং গরিব আফগান শরণার্থীদের ওপর ক্ষমতা দেখিয়ে নিজেদের অবস্থান বুঝিয়ে দিচ্ছে।

দিল্লি বিস্ফোরণের রেশ, আফগানিস্তানের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশই উত্তপ্ত হচ্ছে। এর প্রভাব দেখা গেছে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ওপর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.