কলকাতা শহরে জমি ও সম্পত্তির কর ব্যবস্থা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুরসভা। কর ফাঁকি ও অসংগতি রুখতে সব সম্পত্তিকে নিয়মিতভাবে পুর-করের আওতায় আনা অত্যাবশ্যক বলে মনে করছে কলকাতা পুরসভা। পাশাপাশি মিউটেশন প্রক্রিয়ায় আরও কড়াকড়ি আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে, যাতে কোনও সম্পত্তি করের হিসাবের বাইরে না থাকে।
পুরসভা সূত্রে জানা যাচ্ছে, কলকাতা জুড়ে জমি ও সম্পত্তির পুনর্মূল্যায়ন (Revaluation) করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে বেহালা, কসবা, গরফা, ঠাকুরপুকুর, সরশুনা, জোকা ও হরিদেবপুরের মতো সংযুক্ত এলাকায় যেখানে গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে নতুন বাড়ি ও আবাসন নির্মাণ।
মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সরাসরি নির্দেশে এই উদ্যোগের গতি আরও বেড়েছে। সম্প্রতি ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে বরো ১৩-এর হরিদেবপুর এলাকার এক মহিলা ফোন করে অভিযোগ জানান— প্রায় ৪৫ কাঠা জমির বার্ষিক সম্পত্তিকর মাত্র ১০৪ টাকা! বিশাল জমির এমন অস্বাভাবিক কম কর দেখে বিস্মিত হন মেয়র। সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুরসভার রাজস্ব ও কর মূল্যায়ন বিভাগকে জরুরি তদন্তের নির্দেশ দেন।
তদন্ত শুরু হতেই উঠে আসে বড়সড় অসংগতির ইঙ্গিত। পুরসভার এক আধিকারিকের কথায়, বহু বছর ধরে ওই বিশাল সম্পত্তির করের পুনর্মূল্যায়ন হয়নি বলেই পুরোনো হারেই কর গণনা হয়েছে। হরিদেবপুরের ১২২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১০৪ কাঠা জমির কর দীর্ঘদিন ধরেই অস্বাভাবিক কম ছিল।
পুরসভা সূত্রে দাবি, মেয়রের নির্দেশের পর ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় আধিকারিকরা তথ্য খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন। শহর জুড়ে জমি ও সম্পত্তির ন্যায্য কর আদায় নিশ্চিত করতেই পুরসভার পক্ষ থেকে রিভ্যালুয়েশনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে ভবিষ্যতে কোনও বড় সম্পত্তি বা নতুন আবাসন করের খাতায় অদৃশ্য না থাকে।
কলকাতায় সম্পত্তিকর কাঠামোতে এই আসন্ন সংস্কার শহরের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।







