জেলা

সমাজের চোখরাঙানি এড়াতে চরম পথ? বাঁকুড়ার জঙ্গলে উদ্ধার প্রেমিক-প্রেমিকার ঝুলন্ত দেহ

সমাজ কি শেষ পর্যন্ত দু’জন মানুষের বাঁচার অধিকার কেড়ে নিল? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আরও গভীর রহস্য? বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার অন্তর্গত রফটগঞ্জ এলাকার শিবেরবাঁধ সংলগ্ন জঙ্গল থেকে প্রেমিক-প্রেমিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

মৃতদের নাম কৃষ্ণা বাউরি (২৪) ও জয়ন্ত বাউরি (২৬)। দু’জনেই রফটগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণা এক বছর আগে স্বামীকে হারান। এরপর বাবার বাড়িতে ফিরে এসে বসবাস শুরু করেন। সেই সময়ই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় জয়ন্তর। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় গড়ায় প্রেমের সম্পর্কে। কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই—জয়ন্ত বিবাহিত এবং তাঁর একটি সন্তানও রয়েছে।

এই সম্পর্কের কথা জানাজানি হতেই জয়ন্তর সংসারে অশান্তি শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে দাবি, বিষয়টি নিয়ে দু’পরিবারেই চাপ ও টানাপোড়েন চলছিল। সমাজের বাধা ও পারিবারিক অশান্তির মাঝেও সম্পর্ক থেকে সরে আসেননি তাঁরা।

গত ৯ ডিসেম্বর জয়ন্ত বাড়ি থেকে কলকাতায় কাজে যাওয়ার কথা বলে বের হন। সঙ্গে জামাকাপড়ও নিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন সুইচড অফ পাওয়া যায়। ১৪ ডিসেম্বর সোনামুখী থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়। একই সময় থেকে নিখোঁজ ছিলেন কৃষ্ণাও।

মঙ্গলবার সকালে কয়েকজন গ্রামবাসী কাঠ কুড়োতে গিয়ে জঙ্গলের ভিতরে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় যুগলের দেহ ঝুলতে দেখেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার সম্ভাবনার কথা ভাবা হলেও, পুলিশ খতিয়ে দেখছে এটি পরিকল্পিত খুন কি না। একই জায়গায় দু’জনের ঝুলন্ত দেহ, নিখোঁজ হওয়ার সময়কাল এবং পারিবারিক টানাপোড়েন—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সমাজের চোখরাঙানি কি দু’জন তরুণ প্রাণকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিল? নাকি এর আড়ালে রয়েছে অন্য কোনও অজানা সত্য? উত্তর খুঁজছে পুলিশ তদন্ত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.