ওড়িশার ভুবনেশ্বরে একটি অবৈতনিক আবাসিক স্কুলে আদিবাসী এক নবম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়—খুন। এই মামলায় স্কুলের অতিরিক্ত সিইও-সহ আট জন কর্মী ও শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি, খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন নাবালক সহপাঠীকেও আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ১৪ বছর বয়সি ওই ছাত্রের সঙ্গে তিন সহপাঠীর বচসা হয় স্নানের একটি বালতি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, বালতি দিতে অস্বীকার করায় তিন নাবালক মিলে শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করে। ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের হুমকি দেওয়া হয় এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটেরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের।
ঘটনাটি ঘটে ১১ ডিসেম্বর রাতে। স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথমে ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, তাদের সন্তান গুরুতর অসুস্থ। পরে ভুবনেশ্বরে পৌঁছোলে পরিবার জানতে পারে, ছাত্রটির মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তে গলায় আঘাতের চিহ্ন মিলতেই সন্দেহ আরও জোরদার হয়। সহপাঠী ও হস্টেলের অন্যান্য পড়ুয়ার বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ খুনের বিষয়টি নিশ্চিত বলে দাবি করেছে।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট স্কুলটি ভুবনেশ্বরের কেআইআইটির একটি শাখা প্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে এই বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কে জড়িয়েছে। আগে দুই নেপালি পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল এবং কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। সর্বশেষ ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠছে আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রয়োজন হলে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।







