সংসদের উভয় কক্ষে পাস হয়ে গেল ‘সবকা বিমা সবকী রক্ষা’ সংশোধনী বিমা বিল, ২০২৫। এর ফলে দেশের বিমাক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সীমা ৭৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০০ শতাংশে পৌঁছতে চলেছে। একদিন আগে লোকসভায় বিলটি পাস হয়েছিল। বুধবার রাজ্যসভায় ধ্বনিভোটে বিলটি অনুমোদন পায়। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরই এটি আইনে পরিণত হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এই সংশোধনের মাধ্যমে দেশের বিমাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলবে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে বিমার বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং গ্রাহকরা তুলনামূলক সস্তায় বিমার সুবিধা পাবেন। এতদিন বহু বিদেশি সংস্থা যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগে অনীহা দেখালেও, এখন একক ভাবে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভারতের বাজারে আরও পুঁজি আসবে বলে আশাবাদী কেন্দ্র।
এই বিল পাস হওয়ার ফলে ১৯৩৮ সালের বিমা আইন, ১৯৫৬ সালের LIC আইন এবং ১৯৯৯ সালের বিমা নিয়ন্ত্রক ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনেও সংশোধন আসবে। বিমা সংস্থার সঙ্গে বিমা-বহির্ভূত সংস্থার সংযুক্তিতেও আর আইনি বাধা থাকবে না। পাশাপাশি, LIC-কে বিদেশে শাখা বিস্তারের ক্ষেত্রেও সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় থাকতে হবে না বলে জানানো হয়েছে।
তবে গোড়া থেকেই এই বিলের বিরোধিতা করে এসেছে বিরোধী দলগুলি। তড়িঘড়ি বিল পাস করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানানো হলেও তা গৃহীত হয়নি। কংগ্রেস সহ একাধিক বিরোধী দল বিদেশি বিমা সংস্থার সঙ্গে আধার ও প্যানের মতো সংবেদনশীল তথ্য ভাগাভাগি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে আর্থিক জালিয়াতি ও ডিজিটাল অপরাধের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিলের নামকরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। রাজনৈতিক স্লোগানের ছোঁয়া রেখে আইনের নামকরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। DMK নেত্রী কানিমোঝি দাবি করেন, তুলনামূলক কম বিনিয়োগে বিদেশি সংস্থাগুলি দেশের বিশাল বিমা বাজারের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে। যদিও বিরোধীদের কোনও সংশোধনীই শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয়নি।







