খেলাধুলা

ঈশান-ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হরিয়ানা: প্রথমবার মুস্তাক আলি চ্যাম্পিয়ন ঝাড়খণ্ড

পুণেতে ঘরোয়া ক্রিকেটের মহাযুদ্ধে শেষ হাসি হাসল ঝাড়খণ্ড। হরিয়ানাকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-টোয়েন্টি ট্রফি ঘরে তুলল তারা। এর আগে ২০১০-১১ সালে বিজয় হাজারে ট্রফি জেতার স্বাদ পেয়েছিল ধোনির রাজ্যের ছেলেরা, তবে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে এটাই তাদের প্রথম রাজ্যাভিষেক। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের মঞ্চ সাজালেন জাতীয় দল থেকে ব্রাত্য হওয়া সেই ঈশান কিশন।

ফাইনালে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ঝাড়খণ্ড যে রান তুলল, তা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভাবাই যায় না। ২০ ওভারে স্কোরবোর্ডে উঠল ২৬২ রান! আর এই রানের পাহাড় গড়ার নেপথ্যে ছিল ঈশান কিশনের খুনে মেজাজ। ওপেন করতে নেমে হরিয়ানার বোলারদের পাড়ার স্তরে নামিয়ে আনলেন তিনি। মাত্র ৪৮ বলে শতরান পূর্ণ করে এক মোক্ষম জবাব দিলেন নির্বাচকদের। শেষ পর্যন্ত ১০১ রান করে যখন আউট হলেন, তখন তাঁর ঝুলিতে ১০টি ছক্কা আর ৬টি চার। সেঞ্চুরি করার পর ঈশানের ‘পুষ্পা’ স্টাইলে উদযাপন বুঝিয়ে দিচ্ছিল, তিনি মাঠের লড়াইয়ের জন্য কতটা মরিয়া ছিলেন।
ঈশানের এই বিধ্বংসী ফর্ম আইপিএলের আগে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ শিবিরে খুশির হাওয়া বইয়ে দেবে ঠিকই, কিন্তু আসল লক্ষ্য সম্ভবত জাতীয় দল। সামনেই ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সহ-অধিনায়ক শুভমন গিল একেবারেই ফর্মে নেই, অন্যদিকে যশস্বী জয়সওয়ালও অসুস্থ। এই অবস্থায় গোটা টুর্নামেন্টে ৫০০-র বেশি রান করা ঈশান কিশনকে কি আর এড়িয়ে যেতে পারবেন গৌতম গম্ভীর বা অজিত আগরকররা?

ঈশান একা নন, হরিয়ানার বোলারদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন তরুণ ব্যাটার কুমার কুশাগ্ৰও। ৩৮ বলে ৮১ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনি আইপিএলের আগে গুজরাত টাইটান্সের ম্যানেজমেন্টকে আশ্বস্ত করলেন। মিডল অর্ডারে কেকেআর-এর অলরাউন্ডার অনুকূল রায় ২০ বলে ৪০ রান করে দলের স্কোরকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান। শেষ দিকে রবিন মিঞ্জও ১৪ বলে ৩১ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস উপহার দেন। ২৬৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোনোকালেই লড়াইয়ে ছিল না হরিয়ানা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই হরিয়ানা অধিনায়ক অঙ্কিত কুমার ও আশিস সিওয়াচকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে দেন ঝাড়খণ্ডের পেসার বিকাশ সিংহ। হরিয়ানা শূন্য রানে ২ উইকেট হারানোর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। মাঝে যশবর্ধন দালাল (৫৩) আর নিশান্ত সিন্ধু (৩১) চেষ্টা করলেও অনুকূল রায়ের স্পিন তাঁদের সেই লড়াই থামিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৮.৩ ওভারে ১৯৩ রানেই অল-আউট হয়ে যায় হরিয়ানা।

এই জয় ঝাড়খণ্ড ক্রিকেটের জন্য এক বিরাট মাইলফলক। ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করে ম্যাচ ও ট্রফি সবই ছিনিয়ে নিলেন ঈশান-অনুকূলরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.