পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে ভক্তদের বিশ্বাস, আচার-অনুশাসন ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুদিনের। সেই শ্রীমন্দিরেই ফের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের আশঙ্কা ঘিরে তীব্র উদ্বেগ। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ছবি নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল মন্দিরের নজরদারি ও স্ক্রিনিং ব্যবস্থা নিয়ে।
ভাইরাল হওয়া ছবিটি ইনস্টাগ্রামে প্রথম পোস্ট করা হয়। ছবিটি দেখে অনেকেরই দাবি, এটি শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের গর্ভগৃহের ভেতর থেকে, রত্ন সিংহাসনের খুব কাছ থেকে তোলা। অথচ মন্দিরের ভিতরে ছবি তোলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। মোবাইলের পাশাপশি সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়েই মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এবার এত কড়াকড়ির মধ্যে কিভাবে ছবি তুলতে পারল তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে সন্ধেহ প্রকাশ করা হয়েছে এই ছবিটি আদৌ সম্প্রতি তোলা নাকি আগের কোনও ছবি পরে আপলোড করা হয়েছে? বর্তমানে সেই বিষয়টাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুরো বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক মাসে একের পর এক নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে। নভেম্বরে একই দিনে দুই ভিন্ন ঘটনায় গর্ভগৃহে অনুপ্রবেশ ও লুকানো ক্যামেরা ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের নিয়ম অনুসারে, অনুমতি ছাড়া ছবি তুললে সর্বোচ্চ দুই মাসের জেল ও এক হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ রয়েছে। তবে ধারাবাহিক ভাবে নিয়মভঙ্গের ফলে উদ্বিগ্ন ওড়িষ্যার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন। তাঁর মতে, শ্রীমন্দিরের মতো সংবেদনশীল ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা লঙ্ঘন রুখতে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। জামিন অযোগ্য ধারা ও সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের বিষয় এখনও কিছু স্পষ্ট ভাবে জানা যায়নি। তবে ভাইরাল ছবি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।







