জেলা

হাওড়ার শালকিয়ায় ফ্ল্যাটে রহস্যমৃত্যু, খুনের সন্দেহে আটক দুই নাবালক

হাওড়ার শালকিয়া এলাকায় একটি আবাসনের ফ্ল্যাটে মাঝবয়সী এক ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খুনের অভিযোগে পুলিশ দুই নাবালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। মৃতের নাম দেবব্রত দাস (৪৮)। সোমবার সকালে শালকিয়ার কৈবর্ত্যপাড়া লেনের একটি ছ’তলা আবাসনের চারতলার ওই ফ্ল্যাট থেকে প্রথমে ঝগড়াঝাটি, পরে গোঙানির আওয়াজ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ফ্ল্যাটের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। একাধিকবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না মেলায় সন্দেহ বাড়ে। পরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায় দেবব্রত দাসের দেহ। মুখ, কান-সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ও রক্ত ছিল। ঘরের ভিতরেই দুই কিশোরকে পাওয়া যায়—একজন বারান্দায়, অন্যজন খাটে শুয়ে গোঙাচ্ছিল বলে দাবি করে। দু’জনই ওই আবাসনের সেক্রেটারি পিন্টু দাসের নাবালক ছেলে ও তার বন্ধু বলে জানা গিয়েছে।

খবর পেয়ে মালিপাঁচঘরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তার আগে ঘরের মধ্যে ধস্তাধস্তিরও প্রমাণ মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মাথার পিছন-সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় দুই নাবালকের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। যে কিশোর অসুস্থতার ভান করছিল বলে সন্দেহ, পরীক্ষায় তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। ফলে ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

দেবব্রত দাস একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় দশ বছর আগে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। তাঁদের এক কন্যাসন্তান মামাবাড়িতে থাকে। দেবব্রতের বৃদ্ধা মা সাধারণত তাঁর সঙ্গেই থাকতেন, তবে ঘটনার সময় তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন।ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী কারণ—হঠাৎ বিবাদ, না কি পূর্বপরিকল্পিত খুন—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে সব দিক খোলা রেখে অনুসন্ধান চলছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.