পিরিয়ড বা রজঃস্রাব—এই কয়েকটি দিন অনেক নারীর কাছেই অস্বস্তির নাম। তলপেটের যন্ত্রণা, শরীরব্যথা, মুড সুইং—সব মিলিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। এই সময় যৌনতা নিয়ে সমাজে এখনও নানা ভুল ধারণা প্রচলিত। কেউ একে পুরোপুরি নিষিদ্ধ মনে করেন, আবার কেউ ঝুঁকি না বুঝেই সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকদের মতে, পিরিয়ড চলাকালীন যৌনতার যেমন কিছু উপকারিতা রয়েছে, তেমনই রয়েছে সতর্কতার প্রয়োজন।
রজঃস্রাবের সময়ে শরীরে হরমোনের ওঠানামা হয়। ফলে কারও যৌন ইচ্ছা বাড়তে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে একেবারেই উল্টোটা হয়। তাই এই সময়ে সঙ্গীর সম্মতি ও স্বাচ্ছন্দ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জোরাজুরি বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিরিয়ডের সময় যৌনতায় অর্গ্যাজম হলে শরীরে এন্ডরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা পেটের খিঁচুনি ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে এতে মানসিক চাপও কমে। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে এই সময় যৌনতা এড়িয়ে চলাই ভালো। এতে দুর্বলতা বা রক্তচাপ কমার আশঙ্কা থাকে।
পিরিয়ড চলাকালীন গোপনাঙ্গ তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল থাকে। শুষ্কতা দেখা দিতে পারে, ফলে লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার উপকারী। একই সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। যৌনতার আগে ও পরে গোপনাঙ্গ ভালো করে পরিষ্কার না করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যৌনরোগের আশঙ্কা। এই সময়ে STI বা এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তাই সুরক্ষা ছাড়া যৌনতা বিপজ্জনক। অনেকেই মনে করেন, পিরিয়ডে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সম্ভাবনা নেই—এই ধারণা ভুল। সম্ভাবনা কম হলেও একেবারে নেই তা নয়। তাই প্রয়োজনীয় সুরক্ষা অবলম্বন করাই বুদ্ধিমানের।
সব মিলিয়ে, পিরিয়ডে যৌনতা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে সেই সিদ্ধান্ত যেন সচেতনতা, সম্মতি এবং সুরক্ষার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়—এটাই চিকিৎসকদের পরামর্শ।







