ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন পর্বকে ঘিরে এবার প্রকাশ্য চাপানউতোর রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে। নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও) তথা ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের সংগঠন এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দফতরের মধ্যে শুরু হল চিঠি চালাচালি। মূলত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং তার দায়ভার কার উপর বর্তাবে—তা নিয়েই এই সংঘাত।
সূত্রের খবর, বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন চলাকালীন কমিশনের তরফে রাজ্যের ইআরও-দের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ভোটার তালিকায় কোনও অবৈধ ভোটার থাকলে তার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। প্রয়োজন হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। সেই নির্দেশের পরেই কার্যত পাল্টা অবস্থান নিয়ে সিইও দফতরে চিঠি পাঠিয়েছে ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের সংগঠন।
চিঠিতে সংগঠনের স্পষ্ট দাবি, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ও ভোটার তালিকা নিবন্ধন বিধি অনুযায়ী কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আগে তাঁকে অবশ্যই শুনানির সুযোগ দিতে হবে। বক্তব্য না শুনে একতরফা ভাবে নাম বাদ দেওয়া আইনসঙ্গত নয়, একান্ত কিছু বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া। সংগঠনের অভিযোগ, খসড়া ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সেই বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া মানা হয়নি।
সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, খসড়া তালিকায় আচমকাই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যাঁদের এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়েনি, তাঁদের অনেককেই মৃত, স্থানান্তরিত বা নিখোঁজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অথচ আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র ফর্ম জমা না পড়লেই কাউকে ওই শ্রেণিতে ফেলা যায় না। এর ফলে প্রকৃত ও যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে বলেই দাবি আধিকারিকদের।
চিঠিতে আরও অভিযোগ, খসড়া তালিকায় একাধিক ত্রুটি রয়েছে। অথচ এই গোটা প্রক্রিয়ার দায় এসে পড়ছে ইআরও-দের উপর। ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদেরই। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই ইআরও-রা জানতেই পারেননি কীভাবে বা কোন ভিত্তিতে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের দাবি, পুরো বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যেন অবিলম্বে স্বচ্ছ ও স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করে। পাশাপাশি, ইআরও-দের তাঁদের আইনগত ক্ষমতা ও দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করতে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কারণ, শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় স্বাক্ষর থাকবে ইআরও-দেরই—এবং সেই তালিকার দায়ও তাঁদের কাঁধেই বর্তাবে।







