ডোমিসাইল বা স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র ঘিরে বিতর্কে নতুন করে উত্তাল রাজ্যের রাজনীতি। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দ্বারা ইস্যু করা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ভোটার পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ না করার নির্দেশ অনানুষ্ঠানিকভাবে সমস্ত জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের জানানো হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি বা আইনসম্মত নির্দেশ জারি করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে কমিশনের বিরুদ্ধে ‘অপরিকল্পিত ও ত্রুটিপূর্ণ’ বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চালানোর অভিযোগ তুলে, অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া সংশোধন অথবা সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কাজের সন্ধানে ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের সশরীরে শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে, যদিও জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী তাঁরা ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য। এর ফলে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক চরম হয়রানি ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন বলে দাবি রাজ্যের।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হলেও তাঁদের জানানো হচ্ছে না কেন ডাকা হচ্ছে। প্রবীণ, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম নাগরিকদেরও ২০-২৫ কিলোমিটার দূরের কেন্দ্রীভূত শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা মানবিকতার পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ডোমিসাইল শংসাপত্রের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় কলকাতা পুরসভায় আবেদনকারীর সংখ্যাও হঠাৎ বেড়েছে। পুরসভার সদর দফতর ও বিভিন্ন বরো অফিসে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৮০টি করে নিবাসী শংসাপত্রের আবেদন জমা পড়ছে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সঠিক দিশা দেখাতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দফতরের তরফে কলকাতার সমস্ত কাউন্সিলরের কাছে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকাও পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, পূর্ব বর্ধমানের কালনায় একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। কালনা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৭ নম্বর পাটের ৩২ জন বাসিন্দাকে হিয়ারিংয়ের জন্য মহকুমা শাসকের দফতরে ডাকা হয়। অভিযোগ, তাঁদের কাছে থাকা পুরনো বাড়ির দলিল-সহ একাধিক নথি মান্যতা পায়নি এবং নতুন করে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠছে, ইতিমধ্যেই ইস্যু করা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বাতিল করা হচ্ছে।
মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ নিয়েও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত আধিকারিক তালিকা উপেক্ষা করে অভিজ্ঞতাহীন কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের মাইক্রো অবজারভার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে, যারা নির্ধারিত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কাজ করছেন।
চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, অবিলম্বে এই ত্রুটিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর এসআইআর প্রক্রিয়া সংশোধন না হলে রাজ্য সরকার তা সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করার দাবি জানাচ্ছে।






