এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) পর্বের পরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকবে তো—এই প্রশ্নে মতুয়া সম্প্রদায়ের এক বড় অংশের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় মতুয়াদের নাম বাদ পড়ছে বলে অভিযোগ তুলে বিজেপিকে লাগাতার নিশানা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই টানাপোড়েনের আবহেই মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছেন বনগাঁর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।
সূত্রের খবর, বুধবার সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন শান্তনু ঠাকুর। তাঁর সঙ্গে থাকবেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের ছ’জন প্রতিনিধি। মোট সাতজনের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির কাছে মতুয়া সমাজের একাধিক দাবি ও আর্জি পেশ করবে। নাগরিকত্ব, ভোটারাধিকার, পাশাপাশি মতুয়াদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন—এই বিষয়গুলি বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
এসআইআর পর্বে নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি বনগাঁয় গিয়ে সভা করে মতুয়াদের পাশে থাকার বার্তা দেন। একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানান তিনি। তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতাও প্রায় প্রতিদিন এই ইস্যুতে বিজেপিকে নিশানা করে চলেছেন।
এই আবহে কয়েকদিন আগে শান্তনু ঠাকুরের একটি মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের নাম বাদ দিতে গিয়ে যদি মতুয়া সম্প্রদায়ের এক লক্ষ মানুষের নাম বাদও যায়, তবে তা মেনে নেওয়া উচিত। ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তরজা শুরু হয়।
এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে মতুয়া প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মঙ্গলবার শান্তনু জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে মতুয়া সমাজের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি তুলে ধরা হবে। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতা, ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে আশঙ্কা, এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
এসআইআর ঘিরে তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।






