‘বেঙ্গল টাইগার ইজ ব্যাক’—পোস্টার পড়েছে তাঁর নামেই। আর রাজনীতির ময়দানে স্বমহিমায় ‘ফিরে’ এসে এবার প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিলেন, মন্ত্রী হতে চান তিনি। মঙ্গলবার নদিয়ার রানাঘাটে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র মঞ্চ থেকে এই বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর পাশে তখন বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমরা পরিবর্তন একটু তাড়াতাড়ি চাইছি। নিশ্চয়ই মন্ত্রী হব। মন্ত্রী তো হতেই হবে।” কেন মন্ত্রী হতে চান, তার ব্যাখ্যাও দেন তিনি। দিলীপের কথায়, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার না হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গরিবদের জন্য চালু করা প্রকল্পগুলির প্রকৃত সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
রানাঘাটের কুপার্স ক্যাম্পে আয়োজিত ওই সভায় একই মঞ্চে বসতে দেখা যায় বর্তমান ও প্রাক্তন দুই রাজ্য সভাপতিকে। শমীকের আগে বক্তব্য রেখে দিলীপ বলেন, গত নির্বাচনে পরিবর্তনের ভিত তৈরি হয়েছিল, কিন্তু তা অর্ধেকেই থেমে গিয়েছে। এবার সেই পরিবর্তন সম্পূর্ণ করতে হবে।
দিলীপের কথায়, “পরিবর্তন এমনিতেই হবে, কারণ পরিবর্তন যুগের নিয়ম। তবে আমরা চাইছি একটু তাড়াতাড়ি। আপনারা বলতে পারেন, বাইরে থাকতে আর ভাল লাগছে না, তাই মন্ত্রী হতে চাইছি। হ্যাঁ, নিশ্চয়ই মন্ত্রী হব। না হলে গরিব মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনব কী করে?”
তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ সব সুযোগ-সুবিধাই লুট হয়ে যাচ্ছে। সেই কারণেই ক্ষমতায় আসা জরুরি।
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য ঘিরে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “সব পেশাতেই উন্নতির লক্ষ্য থাকে। দিলীপ ঘোষ একজন আরএসএসের পুরনো মানুষ, আমাদের সঙ্গে মতাদর্শগত লড়াই রয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্যে ‘আমি এটা হতে চাই, ওটা হতে চাই’—এই ধরনের মন্তব্য তাঁর মানানসই নয়।”
কুণাল আরও বলেন, “তপন শিকদারের পর দিলীপবাবুই রাজ্য বিজেপির সবচেয়ে সফল সভাপতি। কিন্তু এখনই মন্ত্রী হতে চাই বলে বিজেপির গোটা দল যে তাড়াহুড়ো করছে, দিলীপবাবু বোধহয় সেই স্রোতেই ভেসে যাচ্ছেন।”
২০২৬-এর আগে রাজ্য রাজনীতিতে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য যে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।.







