রাজ্যের অধীনে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জট অনেকটাই কাটল। সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানিকালে রাজ্য সরকার ও আচার্য—দুই পক্ষের আইনজীবীরাই জানিয়েছেন, এখনও মাত্র ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ বাকি রয়েছে। তার মধ্যে আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষেরই সহমত হয়েছে।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যেসব আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলিতে অবিলম্বে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। বাকি তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নতুন করে নাম চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ইউ ইউ ললিতের নেতৃত্বাধীন সার্চ অ্যান্ড সিলেকশন কমিটিকে। পুরোনো প্যানেল থেকেই কাউকে বেছে নেওয়া হবে, না কি নতুন করে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শুরু হবে—সে সিদ্ধান্ত নেবে ওই কমিটিই।
চার সপ্তাহের মধ্যে এই সংক্রান্ত অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রসঙ্গত, এর আগেই রাজ্যের ছ’টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়, ঝাড়গ্রাম সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় এবং কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে রাজ্যের মোট ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯টিতে স্থায়ী উপাচার্য রয়েছেন। তবে বাকি ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরেই দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছিল প্রশাসনিক অচলাবস্থা।
রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত নামগুলিতে সম্মতি দিতে অস্বীকার করেন আচার্য তথা রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। এর পর তিনি নিজের পছন্দ অনুযায়ী একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করতে শুরু করেন। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই রাজ্য সরকার ও আচার্যের মধ্যে সংঘাত চরমে ওঠে এবং বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।
পরিস্থিতির জট কাটাতে শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালত সার্চ অ্যান্ড সিলেকশন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। সাম্প্রতিক নির্দেশে সেই প্রক্রিয়াই নতুন করে গতি পেল বলে মনে করছে শিক্ষা মহল।







