আতঙ্কের নতুন নাম নিপা। রাজ্যে ‘মারণ’ নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে যখন তৎপর প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর, ঠিক তখনই বারাসতে এক মহিলার মৃত্যু ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। জ্বর, সর্দি, কাশি ও বমির মতো নিপার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ওই ৫৫ বছরের মহিলার মৃত্যু নিপা সংক্রমণের ফল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ, নমুনা পরীক্ষার আগেই মৃত্যু হয় তাঁর।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসতের উত্তর কাজীপাড়া ঝাউতলার বাসিন্দা ওই মহিলা গত ১৯ ডিসেম্বর হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন। সঙ্গে সর্দি, কাশি ও বমির উপসর্গও দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বারাসতে যশোর রোড সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে এবং মাত্র তিন দিনের মাথায়, ২২ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওই একই হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্স বর্তমানে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। তাঁদের সংক্রমণের বেশ কয়েকদিন আগেই ওই মহিলা একই উপসর্গ নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই মহিলার লালারস বা রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর আগেই মৃত্যু হওয়ায় নিপা সংক্রমণ নিশ্চিত করা যায়নি।
আরও জানা গিয়েছে, আক্রান্ত দুই নার্স ২০ ও ২১ ডিসেম্বর একসঙ্গেই নাইট ডিউটি করেছিলেন। ওই সময়েই তাঁদের ওই মহিলার সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ডিউটির ঠিক পরের দিন থেকেই দুই নার্সের জ্বর শুরু হয়। এই ঘটনাক্রম থেকেই সংক্রমণের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে।
এই ঘটনার পরই কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ আউটব্রেক রেসপন্স টিম (Joint Outbreak Response Team) ওই মহিলার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। পাশাপাশি, ওই মহিলা ও আক্রান্ত দুই নার্সের মধ্যে কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংস্পর্শ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসা পদ্ধতি, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং ডিউটি রোস্টারও পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে আক্রান্ত দুই নার্সই আইসিইউ-তে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন কোমামুক্ত হলেও, দুজনেরই অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক। চিকিৎসায় সাড়া মিললেও তাঁরা সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত নন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে জয়েন্ট আউটব্রেক টিম।
এই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে নিপা আতঙ্ক আরও বেড়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমস্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।






