রাজ্য

করমণ্ডলের সিগন্যাল সবুজ দেখানোতে কার ত্রুটি ছিল ? তদন্তে এলো নয়া তথ্য !

নিজস্ব সংবাদদাতা : ওড়িশায় করমণ্ডল এক্সপ্রেস ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে চলছিল তদন্ত । সেই তদন্তে উঠে এলো নয়া তথ্য যা চোখে পড়ার মতো । উল্লেখ্য গত ২ জুন ওড়িশার বাহানাগা বাজার স্টেশন লাগোয়া রেল গেটে দুর্ঘটনার অন্তত দু’ঘণ্টা আগে থেকে সিগন্যালিং ব্যবস্থার মেরামতির কাজ চলছিল। এরপরে করমণ্ডল এক্সপ্রেসের চালক আপ মেন লাইনের ডিসট্যান্ট সিগন্যাল সবুজ দেখতে পেয়েছিলেন । সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিট নাগাদ খান্তাপাড়া এবং তার পরে ইব স্টেশন পার হওয়ার পরে গতি কমানোর জন্য তাঁর কাছে কোনও বার্তা আসেনি। তবে স্টেশনে ঢোকার ঠিক আগে হোম সিগন্যালও সবুজ পেয়েছিলেন । যার জেরে ঘণ্টায় ১২৮ কিলোমিটার গতিবেগে ট্রেনটি মেন লাইন ছেড়ে লুপ লাইনে ঢুকে ধাক্কা মারে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা লৌহ আকরিক ভর্তি মালগাড়িতে ।

সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তের যে ইঙ্গিত এসেছে সেখানে বলা হয়েছে , করমণ্ডলের লাইনের পয়েন্ট লুপের দিকে
ঘোরানো ছিল । তবে এখন প্রশ্ন উঠছে , রেলের ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং ব্যবস্থা সত্যিই গলদ-প্রতিরোধী বা ‘ফেল-সেফ’ হলে সে দিন সিগন্যালিংব্যবস্থায় পয়েন্টের এই গলদ কেন ধরা পড়েনি? তবে কি যাঁরা সে দিন কাজ করছিলেন , তাঁদের হাতেই কোনও ভাবে সিগন্যালিং ব্যবস্থা প্রভাবিত হয়েছিল? সাধারণ ভাবে রুট সেট করার এবং সিগন্যাল হওয়ার জন্য প্যানেল ইন্টারলকিং বোর্ডে দু’টি সুইচ থাকে। সেই দু’টিকে একসঙ্গে সক্রিয় করাটাই নিয়ম। ট্রেনের পথ করে দেওয়ার দায়িত্ব স্টেশন মাস্টারের। তিনি কি শেষ পর্যন্ত সব কিছু পরীক্ষা করেছিলেন?এসব নিয়ে বারবার উঠছে প্রশ্ন ।

রেল সূত্রের খবর,রেল দূর্ঘটনার দিন বাহানাগা বাজার স্টেশনের আগে একটি লেভেল ক্রসিং গেটের বুম পাল্টে আধুনিক ইলেকট্রনিক বুম ব্যারিয়ার বসানো হচ্ছিল। ওই শাখার সেকশন সিগন্যাল ইনস্পেক্টর বিকেল ৪টে ৩৫ মিনিট নাগাদ ওই কাজ করার জন্য স্টেশন মাস্টারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফর্মের মাধ্যমে সময় নেন । কাজ চলে প্রায় দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে । সন্ধ্যা ৬টা ৫০ নাগাদ নতুন বুম ব্যারিয়ারটিকে প্যানেল ইন্টারলকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করেন সেকশন সিগন্যাল ইনস্পেক্টর। স্টেশন মাস্টারকে জানান, তাঁর কাজ শেষ। ইন্টারলকিং ব্যবস্থায় লেভেল ক্রসিংয়ের গেট ঠিকমতো বন্ধ না হলে ট্রেন সিগন্যালই পায় না। তবে এখানে প্রশ্ন হল, সে দিন সিগন্যালিংয়ের কাজ হওয়ার পরে ইন্টারলকিং ব্যবস্থা আবার ঠিকমতো কাজ করছে কি না, স্টেশন মাস্টার বা সিগন্যালিং বিভাগের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক কি তা দেখে নিয়েছিলেন?

উল্লেখ্য, পয়েন্টের অবস্থান এবং দিক নির্দেশ করে রিলের সঙ্গে বসানো সেন্সর। সেই সেন্সর কী ভাবে পয়েন্টের অবস্থান পড়তে ভুল করল? তবে রেলের এই প্রযুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, কোথাও ভুল থাকলে পুরো বৈদ্যুতিন ব্যবস্থাটাই লাল রঙের আলোয় জ্বলে উঠে ‘বিপদ’ চিহ্নিত করবে। সেটাও যে হয়নি । তবে ট্রেন নির্দিষ্ট ১৭ নম্বর পয়েন্টের আগেই লাইনচ্যুত হয়েছিল। এতে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া এবং অন্তর্ঘাত নিয়ে আশঙ্কা বেড়েছে। যার ফলে খতিয়ে দেখতে হচ্ছে অন্তর্ঘাতের সম্ভাবনাও । তবে কেন সব কিছু ঠিকমতো পরীক্ষা করা হয়নি, স্টেশন মাস্টার এবং সিগন্যালিং বিভাগের আধিকারিকদের সেই প্রশ্নের মুখে ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.