নবান্ন ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাত আরও চড়ল। রাজ্য প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে কেন তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভারকে বদলি করা হল—এই প্রশ্ন তুলে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে কড়া চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ, অবিলম্বে ওই বদলির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি বুধবার বিকেল তিনটের মধ্যে বিস্তারিত স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ অক্টোবর ২০২৫-এর নির্দেশ অনুযায়ী ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন সংশ্লিষ্ট কোনও আধিকারিককে কমিশনের আগাম অনুমতি ছাড়া বদলি করা যাবে না। এই নির্দেশ কার্যকর করা ও তদারকির দায়িত্ব ছিল রাজ্যের মুখ্যসচিবের উপর। অথচ সেই নির্দেশ অমান্য করেই রাজ্য সরকার সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি জারি করে তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভারকে বদলি করেছে বলে অভিযোগ।
যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁরা হলেন—
স্মিতা পাণ্ডে (আইএএস): পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূম জেলার ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভার।
অশ্বিনী কুমার যাদব (আইএএস): উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের দায়িত্বে ছিলেন।
রণধীর কুমার (আইএএস): উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা উত্তরের ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভার।
কমিশনের অভিযোগ, এই তিন আধিকারিকের বদলির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে কোনওরকম আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি, যা সরাসরি কমিশনের নির্দেশ লঙ্ঘনের সামিল। সেই কারণেই মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত জবাব চাওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলের মধ্যে নবান্নকে জবাব দিতেই হবে—এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসন ও কমিশনের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।







