মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত আরও তীব্র হল। বঙ্গভবনের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং সেখানে অবস্থানরত পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) সংক্রান্ত দুর্গতদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সোমবার রাতেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে রাজ্য পুলিশের ২২ জনের একটি বিশেষ বাহিনী।
নবান্ন সূত্রের খবর, এই বিশেষ দলে পুরুষ ও মহিলা পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ)-এর দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের সদস্যরাও থাকছেন। গোটা বাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন এক জন ডিএসপি ও এক জন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক। দিল্লিতে পৌঁছনোর পর তাঁরা বঙ্গভবনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, প্রবেশপথের নজরদারি এবং এসআইআর দুর্গতদের চলাচলের সময় নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাবেন।
প্রসঙ্গত, রবিবার দিল্লি পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার তিনি এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের দফতরে যান। তবে একই দিনে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর গতিবিধির উপর ‘অযথা নজরদারি’ এবং রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের কাজে ‘বাধা’ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন, একটি নির্বাচিত রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এমন আচরণ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।
রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, দিল্লিতে বঙ্গভবনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চায় না নবান্ন। জানা গিয়েছে, সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল পীযূষ পাণ্ডে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন। তাঁর নির্দেশেই এই বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়েছে। সোমবার বিকেলের মধ্যেই চূড়ান্ত হয় বাহিনীর সদস্যদের তালিকা।
নবান্নের একাংশের মতে, দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়েই রাজ্যের নিজস্ব দায়িত্বে নিরাপত্তা জোরদার করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। যদিও বিজেপির কটাক্ষ, এই পদক্ষেপ কেন্দ্র-রাজ্য টানাপড়েনকে আরও বাড়াবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন দিনে দিল্লিতে রাজ্য সরকারের কর্মসূচি ও বৈঠক ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকের পাশাপাশি এসআইআর বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।
সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনের নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশের এই নজিরবিহীন মোতায়েন কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







