ভাষা ও পরিচয়ের প্রশ্নে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী মানুষের উপর যে ধারাবাহিক অত্যাচারের অভিযোগ উঠছে, তার প্রতিফলন এবার কেন্দ্রীয় বাজেটেও দেখা গেল—এমনই দাবি করল তৃণমূল কংগ্রেস। সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ২০২৬-এর কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেকের অভিযোগ, বাজেট ভাষণে যে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির কথা বলা হয়েছে, সেখানে একবারও বাংলার কোনও শিল্পস্থাপনা, শিক্ষা বা স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের উল্লেখ নেই। বিশেষ করে নিমহান্সের মতো জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ব্যাঙ্গালুরু ছাড়াও আরও দু’টি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ার কথা বলা হয়েছে—একটি অসমে, অন্যটি ঝাড়খণ্ডে। অথচ বাংলার পূর্বে অসম, পশ্চিমে ঝাড়খণ্ড থাকা সত্ত্বেও বাংলার জন্য কিছুই নেই। তাঁর কটাক্ষ, “বাংলার মানুষের অসুবিধা হলে ঝাড়খণ্ড বা অসমে যেতে হবে, বাংলায় নয়।”
এই বঞ্চনাকে বিজেপির মানসিকতার প্রতিফলন বলেই ব্যাখ্যা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব—প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—বাংলার মানুষকে বাংলাদেশি হিসেবে দেখেন বলেই বাংলার জন্য কোনও আর্থিক প্যাকেজ, বিশেষ বরাদ্দ বা সমাধান বাজেটে রাখা হয়নি।
তৃণমূল নেতার আরও অভিযোগ, এই বাজেটে বাংলার শ্রমিক, কৃষক, তপশিলি, আদিবাসী ও জনজাতি সমাজ, মৎস্যজীবী—কারও জন্যই কোনও সুনির্দিষ্ট সুবিধা নেই। যুবসমাজের কর্মসংস্থানের জন্যও আলাদা করে কোনও পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় বাজেট বাংলার প্রতি ‘বঞ্চনার দলিল’—এই ভাষাতেই বাজেটের সমালোচনায় সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।







