মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ayatollah Ali Khamenei নিহত হওয়ার খবর ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কার্যত বিস্ফোরক হয়ে উঠেছে। শনিবার তেহরানে তাঁর বাসভবন লক্ষ্য করে চালানো হামলার পর ইরানি সংবাদমাধ্যম এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
ঘটনার পরপরই শোক ও ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ইরান। পবিত্র কোম শহরের ঐতিহাসিক Jamkaran Mosque-এর গম্বুজে উত্তোলন করা হয় ‘প্রতিশোধের লাল পতাকা’— যা ইরানি সংস্কৃতিতে কঠোর প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
খামেনেইর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ও শোকের আবহের পাশাপাশি ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে উল্লাসের দৃশ্যও সামনে এসেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) দাবি করেছে, খামেনেই ছিলেন ইসরায়েলবিরোধী আঞ্চলিক কৌশলের মূল স্থপতি এবং তথাকথিত ‘ইরানি অক্টোপাস’-এর মস্তিষ্ক।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ইরানি জনগণের জন্য “দেশ পুনরুদ্ধারের সুযোগ” বলে উল্লেখ করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu ইরানের জনগণকে বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
খামেনেইর মৃত্যুর পর সৃষ্ট ক্ষমতার শূন্যতা পূরণে ইরানে গঠিত হয়েছে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব কাউন্সিল। নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই কাউন্সিলই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে।
এই কাউন্সিলের সদস্যরা হলেন—
বর্তমান প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian
প্রধান বিচারপতি Gholam Hossein Mohseni Ejei
ধর্মীয় নেতা Alireza Arafi
উল্লেখযোগ্যভাবে, আরাফি গার্ডিয়ান কাউন্সিলের প্রভাবশালী সদস্য এবং অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক কাঠামোর জুরিস্ট সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
খামেনেইর মৃত্যুর জেরে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শোক ও প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা— কোমে লাল পতাকা উত্তোলনের এই প্রতীকী বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে সম্ভাব্য সামরিক প্রতিশোধের দিকে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের সূচনা করতে পারে।







