সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীল ও অর্ধ-অশ্লীল কনটেন্টের সহজলভ্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা রাজ্যসভার সাংসদ Harbhajan Singh। বৃহস্পতিবার সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানান, পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হোক।
বর্তমানে Aam Aadmi Party-এর সাংসদ হিসেবে রাজ্যসভায় প্রতিনিধিত্ব করছেন হরভজন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, দেশের শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য এখন গুরুতর ঝুঁকির মুখে। অল্প বয়সেই তারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বা অর্ধ-অশ্লীল কনটেন্টের সংস্পর্শে আসছে, যা তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে দাবি তাঁর।
রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হরভজন বলেন, বর্তমানে অনেক শিশু খুব অল্প বয়সেই সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে তারা এমন কনটেন্ট দেখছে যা তাদের বয়সের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়।
তাঁর মতে, ১৬ বছরের নিচে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত। পাশাপাশি সব প্ল্যাটফর্মে বাধ্যতামূলকভাবে শক্তিশালী ‘এজ ভেরিফিকেশন’ বা বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করার দাবিও জানান তিনি।
প্রাক্তন এই স্পিনারের দাবি, অল্প বয়সেই যৌন উত্তেজক কনটেন্ট দেখার ফলে শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ, অবসাদ এবং বিকৃত মানসিকতার প্রবণতা বাড়ছে। “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে। এখনই সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে,”—সংসদে এমনই মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে। কিছু রাজ্য নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ আনার পথে হাঁটছে।
দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। কর্ণাটকে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ১৩ বছরের নিচে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে এবং সেই সীমা ১৬ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
পাশাপাশি পাঞ্জাব সরকারের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় বয়স যাচাইয়ের নিয়ম বাধ্যতামূলক করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার বদলে বয়সভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করা হলে তা আরও কার্যকর হতে পারে। এতে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, আবার প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগও পুরোপুরি বন্ধ হবে না।







