আইপিএল ২০২৬-এর আগে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল Board of Control for Cricket in India। পিচ ও অনুশীলন সংক্রান্ত একাধিক নতুন নিয়ম জারি করে পাঁচ পাতার বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বোর্ড। মূল লক্ষ্য—দীর্ঘদিনের অভিযোগ মেটানো এবং ‘হোম গ্রাউন্ড অ্যাডভান্টেজ’ কমানো।
বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ উঠেছে, আয়োজক দলগুলি অনুশীলনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিজেদের উপযোগী পিচ তৈরি করে বাড়তি সুবিধা নেয়। সেই বিতর্কের অবসান ঘটাতেই এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে বোর্ড।
নতুন নিয়মের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘সাড়ে তিন ঘণ্টা’ বা ২১০ মিনিটের সীমা। ফ্লাডলাইটের নিচে অনুষ্ঠিত কোনও অনুশীলন ম্যাচ এই সময়ের বেশি চলতে পারবে না। পিচের অতিরিক্ত ক্ষয় রোধ করতেই এই সিদ্ধান্ত। ফলে দীর্ঘ ইন্ট্রা-স্কোয়াড ম্যাচ খেলার সুযোগ কার্যত কমে গেল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির।
এছাড়াও, প্রতিটি দল সর্বোচ্চ দু’টি অনুশীলন ম্যাচ খেলতে পারবে, তাও বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে। এই ম্যাচগুলি মূল পিচে নয়, সাইড উইকেটে আয়োজন করতে হবে। ম্যাচের চার দিন আগে থেকে মূল পিচে অনুশীলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রয়োজনে বিকল্প অনুশীলন মাঠের ব্যবস্থা করবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা, এবং তার জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে কোনও খরচ বহন করতে হবে না।
নেট অনুশীলনেও আনা হয়েছে কঠোরতা। প্রতিটি দলের জন্য আলাদা নেট বরাদ্দ থাকবে। কোনও দল নির্ধারিত সময়ের আগে অনুশীলন শেষ করলেও অন্য দল সেই উইকেট ব্যবহার করতে পারবে না। এমনকি থ্রো-ডাউন চলাকালীন অন্য দলের নেট ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
তবে ম্যাচের আগের দিন বোর্ডের অনুমতি নিয়ে দুই দল একই সময়ে অনুশীলন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়—সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা এবং রাত ৮টা থেকে ১০টা—দুই দলে ভাগ করে দেওয়া হবে। এতে আবহাওয়া বা শিশিরের প্রভাব নিয়ে কোনও দলই বঞ্চিত হবে না।
এছাড়াও, মূল ম্যাচ পিচ ব্যবহারে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। হোম টিমগুলিকে মেডিক্যাল, নিরাপত্তা এবং ক্যাটারিং পরিষেবার পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। অন্যদিকে, অ্যাওয়ে দলকে কেবল নিজেদের পানীয়ের ব্যবস্থাই করতে হবে।
সব মিলিয়ে, আইপিএলের মতো উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক লিগে সমতা বজায় রাখতে এবং বিতর্ক এড়াতে এবার আগাম সতর্ক পদক্ষেপ নিল বিসিসিআই। নতুন নিয়ম কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।







