কলকাতা

আরজি করে লিফট দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত খুন? মৃত্যুর ঘটনায় নতুন প্রশ্নের ঝড়

কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (RG Kar Lift Death Case) ভয়াবহ ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ট্রমা কেয়ারের একটি লিফটে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর হৃদরোগে আক্রান্ত (RG Kar Death Case) হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। এই ঘটনার পরই স্বাস্থ্য দফতর রিপোর্ট তলব করেছে এবং গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।

মৃতের নাম অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় (৪০)। তিনি দমদমের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, ছেলের হাত ভেঙে যাওয়ায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। সেই সময় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ট্রমা কেয়ারের লিফটে ওঠেন। অভিযোগ, লিফটে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা বিকল হয়ে যায় এবং তিনজনই ভিতরে আটকে পড়েন।

প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে লিফট খুললে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কী বলছে

প্রাথমিক যে রিপোর্ট সামনে এসেছে তা ভয়াবহ। মৃত যুবকের পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, প্লীহা, এমনকী অন্ত্রও ফেটে গেছিল! দেহের ভিতরই সাংঘাতিক রক্তক্ষরণ হয়েছিল।

এই ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের নজরদারি ক্যামেরায় দু’বার অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা গিয়েছে – একবার অপারেশন থিয়েটারের সামনে এবং পরে উদ্ধার হওয়ার সময়। মাঝের সময়টা নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

সূত্রের দাবি, ওপরতলায় শৌচালয়ে যাওয়ার জন্যই পরিবার-সহ লিফটে ওঠেন তিনি। তবে লিফটটি কিছু তলা উঠেই সজোরে বেসমেন্টে নেমে যায় (ধাক্কা খায়) এবং এক সময় দরজা খুলে যায়। সেই সময় স্ত্রী ও সন্তান বেরিয়ে আসতে পারলেও অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ভিতরেই থেকে যান বলে অভিযোগ। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে তিনি বেরোতে পারেননি, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অভিযোগ, পাঁচ নম্বর ফ্লোরের বাটন টিপলেও লিফটে তিন নম্বর ফ্লোর পর্যন্ত উঠে ফের নীচে নেমে আসে। বেসমেন্টে সজোরে ধাক্কা লাগার কারণেই অরূপের এত বেশি চোট লেগেছে বলে অনুমান।

আরজি কর হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির নাক-মুখ থেকে রক্ত বেরোচ্ছিল। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, লিফট বেসমেন্টে পৌঁছলে স্বাভাবিক নিয়মেই দরজা খুলে যায়। সেই ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে একজন ব্যক্তি ভিতরে আটকে থাকলেন কীভাবে, তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

এই ঘটনার পর হাসপাতালের পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। সব মিলিয়ে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা জানতে এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে সকলেই।

যদিও এটিকে দুর্ঘটনা বলতে নারাজ ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (BJP Candidate Suvendu Adhikari)। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইচ্ছে করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ খুনের ঘটনা, দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

বিজেপি প্রার্থী বলেন, ”ইচ্ছে করে মেরে দিয়েছে। খুনের মামলা দায়ের হওয়া উচিত। প্রত্যক্ষ খুনের জন্য দায়ী আরজি করের সুপার। আর পরোক্ষভাবে দায় স্বাস্থ্য দফতর, স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।” শুভেন্দু দাবি করেছেন যে, তাঁর কাছে সরকারি নথিও রয়েছে যেখানে স্পষ্ট বলা আছে যে, লিফটে কাজ হচ্ছিল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.