গত কয়েকদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎই ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক আতঙ্কজনক পোস্ট যেখানে দাবি করা হচ্ছে, ‘ধেয়ে আসছে সাইক্লোন শম্পা’, ‘ধ্বংস হবে কলকাতা’ ইত্যাদি। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম থেকে ইউটিউব সব প্ল্যাটফর্মেই একই ধরনের ভিডিও ও ছবি ঘুরতে দেখা যাচ্ছে, যা শহরবাসীর মধ্যে অযথা ভয় তৈরি করছে।
তবে বাস্তবের চিত্রটা অনেকটাই আলাদা। আবহাওয়াবিদদের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘শম্পা’ নামে কোনও ঘূর্ণিঝড়ের অস্তিত্ব নেই। ভারতের মৌসম ভবন বা অন্য কোনও স্বীকৃত আবহাওয়া সংস্থাও এই ধরনের কোনও সতর্কতা জারি করেনি। অর্থাৎ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড় সাধারণত বঙ্গোপসাগর বা আরব সাগরে তৈরি হয় এবং তা শক্তিশালী হতে সময় নেয়। পাশাপাশি স্যাটেলাইট নজরদারির মাধ্যমে আগাম সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়। মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গে সাইক্লোন আছড়ে পড়ার ঘটনা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে এই সময় ‘সুপার সাইক্লোন’ আসার দাবি বাস্তবসম্মত নয়।
এছাড়াও হাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ একটি আন্তর্জাতিক তালিকা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। অতীতে ‘আমফান’ বা ‘ফণি’র মতো ঝড় সেই তালিকা মেনেই নাম পেয়েছিল। সেই তালিকায় ‘শম্পা’ নামে কোনও ঝড়ের উল্লেখ নেই। আবহাওয়াবিদের মতে, সম্প্রতি যে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ‘কালবৈশাখী’ বা নরওয়েস্টারের প্রভাব। এটি প্রাক-বর্ষার একটি স্বাভাবিক বজ্রঝড়, যা মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে নিয়মিত ঘটে। তাই ‘সাইক্লোন শম্পা’ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। ভুয়ো খবর এড়াতে সবসময় সরকারি আবহাওয়া দফতরের আপডেটের উপর ভরসা রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ।







