অনিল আম্বানি গোষ্ঠীর ঋণ জালিয়াতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর রিপোর্টে উঠে এসেছে—২৯৮৩ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলা মাত্র ২৬ কোটি টাকায় নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এই “অস্বাভাবিক মিটমাট” নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে চলছিল অনিল ধীরুভাই আম্বানি গ্রুপের (ADAG) বিরুদ্ধে ৪০,০০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলার শুনানি। সেখানেই আদালত জানতে পারেন, ‘Project Help’ নামে বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে ৮টি নন-ব্যাংকিং আর্থিক সংস্থার মধ্যস্থতায় এই অস্বাভাবিক নিষ্পত্তি হয়েছে।
ED ও CBI–এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানায়—দুই কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে “ঢিলেমি ও ইতস্তত ভাব” দেখা যাচ্ছে। কেন তদন্ত এত ধীর গতিতে এগোচ্ছে, তা জানতে চান বিচারপতিরা।
মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রশ্ন তোলেন—
“উচ্চপদস্থদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন শুধুমাত্র নীচুস্তরের আধিকারিকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে?”
সরকারের অবস্থান
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান—
ED কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে,
চার সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তবে কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বা কাকে গ্রেফতার করা হবে—সে বিষয়ে মন্তব্য করা যায় না বলেই জানান তিনি।
কঠোর বার্তা আদালতের
প্রধান বিচারপতির মন্তব্য—
“তদন্তে ইতস্তত ভাব স্পষ্ট। এভাবে চলতে পারে না। তদন্ত হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পক্ষপাতহীন।”
অনিল আম্বানির বিপুল পরিমাণ বকেয়া ঋণ “নামমাত্র টাকায় মকুব” করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। এবার সে বিষয়ে শীর্ষ আদালতের উদ্বেগে নতুন মাত্রা যোগ হল।







