পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহেই রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও ঘনীভূত। নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হতেই মুখ্যমন্ত্রী এবং ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল বিজেপি। বুধবার কমিশনে জমা দেওয়া চিঠিতে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানায় তারা।
বিজেপির অভিযোগ, আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর কোনও রাজনৈতিক নেতা সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রচার চালাতে পারেন না। অথচ কলকাতার কালীঘাট-সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সহ হোর্ডিং ও পোস্টার প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছে। বিজেপির দাবি, এই সমস্ত প্রচার সামগ্রী সরকারি খরচে বা সরকারি সম্পত্তি ব্যবহার করে লাগানো হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা বিরোধী।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী তথা একজন প্রার্থীর ছবি ব্যবহার করে প্রচার করা ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সরাসরি নিরপেক্ষতা লঙ্ঘন করে। তাই অবিলম্বে এসব পোস্টার ও হোর্ডিং সরানোর নির্দেশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে কমিশনের কাছে।
ঠিক এই সময়েই পাল্টা অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের বাড়ির সামনে গিয়ে উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন, যা নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে। সেই অভিযোগও কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের বিডিওকে ভবানীপুরে আনা নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ কার্যত খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, কোনও আধিকারিক পাঁচ বছর আগে কোন এলাকায় কাজ করেছেন, সেই কারণে বর্তমানে তাঁকে অন্যত্র নিয়োগে বাধা থাকে না। একজন সরকারি আধিকারিকের দায়িত্ব কমিশনই নির্ধারণ করে এবং তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের নয়, বরং নির্বাচন পরিচালনার স্বার্থেই নিয়োজিত।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের মুখে আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে পরস্পরবিরোধী অভিযোগে সরগরম বাংলা রাজনীতি। এখন নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।







