কলকাতা: পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় Enforcement Directorate (ED)-র পরপর তলবের মুখে পড়েও নির্বাচনী প্রচারে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই দেখা গেল তৃণমূল প্রার্থী Sujit Bose-কে। গতকাল ED-র তলব এড়িয়ে গেলেও, তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন ছেলে সমুদ্র বসু।
রবিবারের প্রচারে বেরিয়ে সুজিত বসু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি উন্নয়নের প্রশ্নে নির্বাচনে সবসময় বলি—ডেভোলপমেন্ট, শান্তি, কমিটমেন্ট। এই তিনটেই মানুষ জানে, সুজিত বোস সেটা রক্ষা করে।” পাশাপাশি ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, তাঁকে “রিনিউ” করে ফের কাজ করার সুযোগ দেওয়ার।
ED তলব এড়িয়ে প্রতিনিধি পাঠালেন
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের ED-র ডাকে সাড়া দেননি সুজিত বসু। পরিবর্তে তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু হাজির হন সিজিও কমপ্লেক্সে।
সমুদ্র বসুর বক্তব্য, ভোটের মুখে বারবার তলব করা হচ্ছে, তাই সময় চাওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, “পিএমএলএ আইনে যাঁকে ডাকা হচ্ছে তিনি উপস্থিত না থাকতে পারলে অনুমতি নিয়ে অন্য কেউ আসতে পারেন। সেইভাবেই আমি এসেছি।”
“চার্জশিটে নাম নেই, হ্যারাসমেন্ট”—সুজিতের দাবি
মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে আগেই এই তদন্তকে “প্রতিহিংসাপরায়ণ” বলে আক্রমণ করেছিলেন সুজিত বসু। তাঁর দাবি, Central Bureau of Investigation (CBI)-র চার্জশিটে তাঁর নাম নেই।
তিনি বলেন, “নির্বাচনে পারবে না, তাই অন্য উপায় অবলম্বন করছে। এই ভিড়ই আমার প্রাপ্তি।”
কী অভিযোগ পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায়?
CBI-র অভিযোগ অনুযায়ী, পুর-নিয়োগ দুর্নীতিতে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয়েছে South Dum Dum Municipality-এ।
২০১৪ সালের পর ৩২৯ জনের বেআইনি নিয়োগের অভিযোগ
একসঙ্গে অন্তত ২৯ জনকে চাকরি দেওয়ার দাবি
অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে
উল্লেখ্য, সেই সময় এই পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন সুজিত বসু।
ভোটের আগে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে
ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। একদিকে ED-র তলব, অন্যদিকে ময়দানে প্রচারে উন্নয়নের বার্তা—এই দুইয়ের মাঝেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে শাসক শিবির।
আগামী দিনে সুজিত বসু নিজে ED-র দফতরে হাজিরা দেন কি না, সেটাই এখন দেখার।







