কোয়েম্বাতুর, শনিবার:
প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-কে ঘিরে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা Rahul Gandhi। তাঁর দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রভাবেই চলছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, এমনকি “ট্রাম্প যা বলবেন, মোদী তাই করবেন”—এই ভাষাতেই আক্রমণ শানান তিনি।
তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাতুরে নির্বাচনী প্রচারসভা থেকে রাহুলের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে দেখে মনে হয়েছে তাঁর আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি রয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির চাপে তিনি কার্যত নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন।
মহিলা সংরক্ষণ বিল ঘিরে সংঘাত
লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়া নিয়ে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে চাপানউতোর চরমে উঠেছে। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিজেপি বিরোধীদের আক্রমণ করলেও আসল লক্ষ্য কংগ্রেসকে কোণঠাসা করা।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক Priyanka Gandhi Vadra দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে। তাঁর দাবি, “৫৪৩ আসনের মধ্যে ৩৩ শতাংশ এখনই মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা হোক। সোমবারই বিল আনুন, দেখা যাবে কারা সত্যিই মহিলাদের সংরক্ষণ চায়।”
মোদীর ভাষণ ও রাজনৈতিক বার্তা
শনিবার রাত সাড়ে আটটায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন Narendra Modi। যদিও সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি, রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল মহিলা সংরক্ষণ বিলের ব্যর্থতা নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণই হবে মূল কৌশল। ভাষণে সেই সুরই বজায় রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম সংসদে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করাতে ব্যর্থ হল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। ২০১১ সালের পর এমন ঘটনা আর দেখা যায়নি, ফলে জোটের অন্দরেই চাপা অস্বস্তি বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে কংগ্রেসের আক্রমণ
রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন চুক্তি হয়েছে যা ভারতের অর্থনীতিকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে আন্তর্জাতিক চাপে নতি স্বীকার করছে কেন্দ্র।”
তিনি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, যেভাবে ট্রাম্প মোদীকে প্রভাবিত করছেন, তেমনই মোদী রাজ্যগুলির উপর প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন এবং তাদের স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ করছেন।
তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক সমীকরণ
তামিলনাড়ুতে বিজেপি লড়ছে এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে। প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী J. Jayalalithaa-র দলের সঙ্গে জোট বেঁধে ২৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিজেপি।
অন্যদিকে শাসকদল ডিএমকে জোটে কংগ্রেস লড়ছে ২৭টি আসনে।
রাজনৈতিক বার্তার তাৎপর্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসভা ও আসন্ন বিভিন্ন রাজ্য নির্বাচনের আগে এই ধরনের সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণ রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়াবে। মহিলা সংরক্ষণ বিলের ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ তৈরি হয়েছে।
এখন নজর, বিজেপি কীভাবে এই অভিযোগের জবাব দেয় এবং সংসদের অচলাবস্থা কাটাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।







