আমদাবাদে সামনে এল এক ভয়ংকর সাইবার জালিয়াতির চিত্র, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে OTP ছাড়াই এক ব্যবসায়ীর আধার ও ব্যাঙ্কিং তথ্য দখল করে নেয় অপরাধীরা। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, এবং গোটা চক্রের কার্যপদ্ধতি দেখে তদন্তকারীরাও বিস্মিত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা Google Gemini-এর মতো উন্নত AI টুল ব্যবহার করে ওই ব্যবসায়ীর একটি ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি করে। সেই ভুয়ো ভিডিও দিয়েই তারা আধারের বায়োমেট্রিক যাচাই প্রক্রিয়াকে ফাঁকি দেয়। এরপর অত্যন্ত কৌশলে আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর বদলে নিজেদের নম্বর বসিয়ে নেয়। ফলে সমস্ত OTP যেতে শুরু করে প্রতারকদের ফোনে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ওই ব্যবসায়ী লক্ষ্য করেন, তাঁর ফোনে আর কোনও ব্যাঙ্কিং OTP আসছে না। সন্দেহ হওয়ায় তিনি সাইবার ক্রাইম শাখার দ্বারস্থ হন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, তাঁর নামে নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে Jio Payments Bank-এ এবং সেখান থেকে ২৫ হাজার টাকার ঋণও নেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, অভিযুক্তরা DigiLocker-এ ঢোকারও চেষ্টা চালায়, যাতে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত নথিপত্র হাতানো যায়। ধৃতদের মধ্যে একজন কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC)-এ কাজ করত, যার ফলে আধার সংক্রান্ত সিস্টেমে তার কিছুটা অ্যাক্সেস ছিল—এটাই তাদের বড় অস্ত্র হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, AI-ভিত্তিক প্রতারণা দ্রুত বাড়ছে এবং বায়োমেট্রিক নিরাপত্তাও এখন আর পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী Nirmala Sitharaman-ও ব্যাংকিং খাতে AI-এর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
আমদাবাদ পুলিশের তদন্তে এখন প্রশ্ন—এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত? তবে সাধারণ মানুষের জন্য বার্তা স্পষ্ট: ডিজিটাল পরিচয় ও বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহারে এখন আরও সতর্ক হওয়াই একমাত্র উপায়।







