আমেরিকার প্রভাবশালী ব্যাঙ্কিং মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ব্যাঙ্ক ‘জেপি মর্গান’-এর এক উচ্চপদস্থ মহিলা আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা। ব্যাঙ্কের এক উচ্চপদস্থ মহিলা আধিকারিকের বিরুদ্ধে তাঁরই পুরুষ সহকর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও যৌনভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের আর্থিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
আদালতে জমা পড়া নথি অনুযায়ী, ৩৭ বছরের লর্না হাজদিনির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন সহকর্মী চিরায়ু রানা। রানার দাবি, অফিসের ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁকে ভয় দেখানো, অপমান করা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হত নিয়মিত। এমনকি একাধিকবার তাঁকে জোর করে আপত্তিকর পরিস্থিতি ও মাদক খাইয়ে অচৈতন্য করে রাখার মতো অভিযোগও উঠেছে।
মামলার এক সাক্ষী জানিয়েছেন, এক রাতে হাজদিনি নাকি আচমকাই রানার অ্যাপার্টমেন্টে নগ্ন অবস্থায় পৌঁছান এবং সেখানে উপস্থিত অন্য এক ব্যক্তিকেও অস্বস্তিকর প্রস্তাব দেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, পরে ঘরের ভিতর থেকে রানার আপত্তি ও চিৎকার শোনা যায়।যেখানে তিনি বারবার বলছিলেন, “দয়া করে থামো, আমি এটা করতে চাই না।”
শুধু যৌন হেনস্থাই নয়, রানার অভিযোগের তালিকায় রয়েছে বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণ, মানসিক নির্যাতন এবং তাঁকে মাদক খাইয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিযোগও। আদালতে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত আধিকারিক তাঁর প্রভাব খাটিয়ে রানাকে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
যদিও সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে জেপি মর্গান’ এবং অভিযুক্ত আধিকারিক। ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগের পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি।
তবে মামলার মোড় ঘুরিয়েছে রানার অতীতের কিছু তথ্য। তদন্তে উঠে এসেছে, অতীতে তিনি নিজের বাবার মৃত্যুর ভুয়ো খবর দিয়ে দীর্ঘ ছুটি নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গত বছর ইন্টারনেটে রানার একটি পোস্ট পাওয়া গেছে যেখানে তিনি একই ধরনের অভিযোগ এক পুরুষ বসের বিরুদ্ধেও করেছিলেন গোটা ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
তবে নিউইয়র্কের আদালতে নতুন করে মামলা দায়ের হওয়ার পর ব্যাঙ্কিং জগতের এই অন্ধকার অধ্যায়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।







