ক্রমাগত ট্রোল, রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি আর সোশ্যাল মিডিয়ার তীব্র কটাক্ষের মাঝেই স্ত্রী শুভশ্রীকে নিয়ে দেশের বাইরে পাড়ি দিলেন পরিচালক-প্রযোজক তথা সদ্য প্রাক্তন রাজনীতিক রাজ চক্রবর্তী। গন্তব্য থাইল্যান্ডের ক্রাবি। ৮ বছরের দাম্পত্য উদযাপনেই এই বিশেষ সফর বলে জানা গিয়েছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই চরম সমালোচনার মুখে পড়তে হয় রাজকে। গণনা কেন্দ্রের বাইরে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ, ‘চোর চোর’ স্লোগান থেকে কাদা ছোড়া—সব মিলিয়ে বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছিল না। এরপরই রাজ স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের জেরে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টও মুছে দেন তিনি।
তবে স্বামীর উপর যখন ধেয়ে আসছে কটাক্ষ, তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শুভশ্রী। লিখেছিলেন, আমাদের সুপারহিরো। আমাদের গর্ব। আমাদের সুপারস্টার, আমাদের ঘর, আমাদের পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু’। তবে সেখানেও কটাক্ষকারীদের হামলা হয়। যার পর কমেন্ট সেকশন ‘লিমিটেড’ করে দেন।
এরই মাঝে শুভশ্রীর সোশ্যাল মিডিয়ায় ধরা পড়ল তাঁদের থাইল্যান্ড ট্রিপের একগুচ্ছ ব্যক্তিগত মুহূর্ত। কখনও সমুদ্রের ধারে রোম্যান্টিক সময়, কখনও ক্যান্ডেল লাইট ডিনার, আবার কখনও একান্ত ব্রেকফাস্ট—সব মিলিয়ে ব্যস্ততা আর বিতর্ক থেকে দূরে যেন নিজেদের সময়টুকুই উপভোগ করছেন তারকা দম্পতি। পোস্টের ক্যাপশনে শুভশ্রী লেখেন, “হ্যাপি অষ্টম, সঙ্গী”।
তবে নজরে পড়েছে আর একটি বিষয়। এই সফরে তাঁদের দুই সন্তান ইউভান ও ইয়ালিনিকে দেখা যায়নি। ফলে অনেকেই মনে করছেন, বহুদিন পর শুধুমাত্র নিজেদের জন্যই সময় বের করেছেন রাজ-শুভশ্রী।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ‘অভিমান’ ছবির শুটিং চলাকালীন কাছাকাছি আসেন রাজ ও শুভশ্রী। যদিও রাজ এর আগেও বসেছিলেন বিয়ের পিঁড়িতে। কেরিয়ারের শুরুর দিকে, তবে খ্যাতির সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্কেও ভাঙন ধরে। এরপর পায়েল থেকে মিমি, একাধিক নায়িকার সঙ্গে নাম জড়ায় রাজের। শুভশ্রীর অবশ্য বেশ সিরিয়াস প্রেম ছিল দেবের সঙ্গে। তাই সম্পর্কের শুরুতে তা গোপন রাখলেও পরে ২০১৮ সালে আইনি বিয়ে এবং একই বছরের মে মাসে বাওয়ালি রাজবাড়িতে ধুমধাম করে সামাজিক বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। ২০২০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাঁদের কোলে আসে প্রথম সন্তান ইউভান। আর ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর জন্ম হয় মেয়ে ইয়ালিনির।বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁদের সংসার।
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করে রাজ জানিয়েছেন, তিনি ফের পুরোপুরি সিনেমার কাজেই মন দিতে চান। তাঁর কথায়, “রাজনীতি আমার জন্য নয়, সিনেমার মাধ্যমেই মানুষকে আনন্দ দিতে চাই।”সঙ্গে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ্যে আসা বিজেপি সরকারকেও।







