মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ধীরগতির ব্যাটিংয়ের খেসারত দিতে হল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। ফলে প্লে-অফের লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠল নাইট শিবিরের জন্য। টানা চার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বুধবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল অজিঙ্ক রাহানের দল। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে লড়াই করেও শেষরক্ষা হল না। বিরাট কোহলির দুরন্ত শতরানের সামনে হার মানতে হল কেকেআরকে। পয়েন্টহীন অবস্থাতেই মাঠ ছাড়লেন রিঙ্কু সিংরা। ফলে প্লে-অফে ওঠার সমীকরণ আরও জটিল হয়ে গেল কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য।
বৃষ্টির কারণে মাঠ ভেজা থাকায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে টস অনুষ্ঠিত হয়। রায়পুরে ম্যাচ শুরু হয় রাত পৌনে নটায়। শুরু থেকেই কেকেআরের ব্যাটিংয়ে দেখা যায় মন্থরতা। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেছিলেন ফিন অ্যালেন। মাত্র ৮ বলে ১৮ রান করে ফিরলেও অন্যপ্রান্তে অধিনায়ক রাহানের ব্যাটে দেখা যায় ধীর লয়। ১৩ বলে তাঁর সংগ্রহ ছিল ১৯ রান। সেই পথেই হাঁটলেন ক্যামেরন গ্রিনও। একসময় পাঁচ বল খেলে মাত্র দুই রান করেছিলেন অজি অলরাউন্ডার। শেষ পর্যন্ত ২৪ বলে ৩২ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
শেষ পাঁচ ওভারে হাতে উইকেট রেখেও মাত্র ৫১ রান তুলতে সক্ষম হয় কেকেআর। অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ৭১ রানের মূল্যবান ইনিংস খেললেও প্রত্যাশিত বিস্ফোরক ব্যাটিং দেখা যায়নি রিঙ্কু সিংয়ের ব্যাটে। তিনি ২৯ বলে ৪৯ রান করেন। ফলে উইকেট হাতে রেখেও দুশোর গণ্ডি পার করতে পারেনি নাইটরা। ম্যাচের মোড় কার্যত ঘুরে যায় শেষ পাঁচ ওভারেই। ১৯৩ রানের লক্ষ্য কঠিন হলেও আরসিবির মতো ব্যাটিং লাইনআপের কাছে তা অসম্ভব ছিল না। প্রথম ১৫ ওভার পর্যন্ত দুই দলের ইনিংস প্রায় সমান তালে এগোলেও ১৬তম ওভারে সুনীল নারিন উইকেট পেলেও ম্যাচ তখন বেরিয়ে গিয়েছে কেকেআরের নাগালের বাইরে।
আরসিবির ইনিংস জুড়ে এদিন ছিলেন এক এবং অদ্বিতীয় বিরাট কোহলি। ক্যারিয়ারের শেষ পর্বে পৌঁছেও তাঁর রান করার ক্ষুধা যে এতটুকু কমেনি, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন তিনি। ওপেন করতে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন কোহলি। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বাধিক শতরানের মালিক আগেই ছিলেন তিনি। বুধবার আরও একটি সেঞ্চুরি যোগ করে সেই রেকর্ড আরও মজবুত করলেন ‘কিং কোহলি’। শুরুতেই জেকব বেথেল ফিরলেও দেবদত্ত পাড়িক্কলের সঙ্গে ৯২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের জয়ের ভিত তৈরি করেন তিনি। শতরান পূর্ণ হলেও বিশেষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়নি কোহলিকে। ১৭৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে কার্যত আরসিবিকে প্লে-অফের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিলেন তিনি। অন্যদিকে কেকেআর শিবিরে আরও ঘনাল অনিশ্চয়তার মেঘ।







