রাজ্য

সরকারি খরচে লাগাম টানতে কড়া নির্দেশ, সব দফতরকে অ্যাকশন প্ল্যান জমার ডেডলাইন ২২ মে

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক সংস্কারে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে নতুন সরকার। কয়েকদিন আগেই সরকারি কর্মীদের কাজের সময়সীমা নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি হয়েছিল। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে সরকারি দফতরগুলিতে ব্যয় কমানো এবং কাজের দক্ষতা বাড়াতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার।

সোমবার সমস্ত দফতরের প্রধান, সচিব এবং জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে হবে এবং প্রযুক্তির সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সেই কারণেই সরকারি বৈঠকের ক্ষেত্রে ভিডিয়ো কনফারেন্স, ভার্চুয়াল মিটিং এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক দক্ষতা বজায় রেখে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় সরকারি সফর কমাতে হবে। প্রয়োজনে গণপরিবহণ, কারপুলিং এবং ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, শক্তির অপচয় রোধ এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকার পেপারলেস অফিস, ই-অফিস ব্যবস্থা, দেশীয় পণ্যের ব্যবহার এবং ‘স্বদেশি’ উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে। একইসঙ্গে বর্জ্য হ্রাস, পুনর্ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন সরকার একদিকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অন্যদিকে আগের সরকারের কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ না করার বার্তাও দিয়েছে। রাজ্যের বিপুল ঋণের চাপের মধ্যেই অর্থ সাশ্রয়ের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি দফতর এবং জেলা প্রশাসনকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের অ্যাকশন প্ল্যান ২২ মে-র মধ্যে মুখ্যসচিবের দফতরে জমা দিতে হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে প্রতি মাসে অগ্রগতি রিপোর্টও জমা দিতে হবে। সরকার এই নির্দেশিকাকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে উল্লেখ করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.